এমন FIR-এর থেকে ইস্টাগ্রাম রিল অনেক ভালো, মন্তব্য বিচারপতির
প্রভাবশালী সংস্থার চাপে দুর্বল FIR: রাজস্থানের সাংবাদিকের মামলা খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট

নয়াদিল্লি: রাজস্থানের জয়পুরে দায়ের করা একটি বিতর্কিত ফৌজদারি মামলা (FIR) বাতিল করে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র উষ্মা প্রকাশ করল ভারতের সর্বোচ্চ আদালত। Zee Rajasthan ও Zee 24 Ghanta-র প্রাক্তন চ্যানেল হেড অশিষ ডেভ-এর বিরুদ্ধে ওঠা তোলাবাজির অভিযোগকে ‘অস্পষ্ট’ ও ‘ভিত্তিহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন বিচারপতিরা।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও পুলিশের সমালোচনা
শুক্রবার বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার শুনানি করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অশিষ ডেভ-এর বিরুদ্ধে দায়ের করা FIR-টিতে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যের উল্লেখ নেই। অভিযোগ ছিল, তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থাকে নেতিবাচক সংবাদ প্রচারের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করতেন। তবে আদালত স্পষ্ট জানায়, এই FIR এতটাই অসম্পূর্ণ যে এর ভিত্তিতে কোনো আইনি তদন্ত চলতে পারে না।
বিচারপতিরা পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “এই FIR-এ আদতে কিছুই নেই। শুধুমাত্র অভিযোগকারী একটি প্রভাবশালী সংস্থা হওয়ার কারণে পুলিশ এটি নথিভুক্ত করেছে।” পুলিশকে ভর্ৎসনা করে আদালত আরও যোগ করে, “একজন সাধারণ নাগরিক এমন অস্পষ্ট অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হতো। কিন্তু এখানে পুলিশ কি ‘জেমস বন্ড’ সিনেমার মতো অতি-সক্রিয়তা দেখাতে চাইছে?”
“এই এফআইআর (FIR)-এ কিছুই নেই। শুধুমাত্র অভিযোগকারী একটি প্রভাবশালী সংস্থা হওয়ার কারণে এই এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে। এটা কী ধরনের এফআইআর? এই ধরনের এফআইআর চলতে দেওয়া যায় না। কোনো সাধারণ নাগরিক যদি এই ধরনের অভিযোগ নিয়ে থানায় যেতেন, তবে তাঁকে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হতো। যেভাবে এই এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে, তা দেখে আমরা স্তম্ভিত,” আদালত পর্যবেক্ষণ করে।
আদালত আরও বলে: “এমনকি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিও এই এফআইআর-এর চেয়ে ভালো।”
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালত আরও জানায়: “পুলিশ অভিযোগকারীর মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দ্বারা প্রভাবিত। এই এফআইআর-এ খুনের ধারা যোগ করতে আপনাদের কে আটকেছিল? পুলিশ আপনাদের মক্কেলের (জি মিডিয়া) জন্য লাল গালিচা বিছিয়ে দিয়েছে। এটা কি কোনো জেমস বন্ডের সিনেমা?”
হাই কোর্টের নির্দেশ খারিজ
এর আগে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে রাজস্থান হাই কোর্ট অশিষ ডেভ-এর মামলা বাতিলের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। তৎকালীন পর্যবেক্ষণে হাই কোর্ট জানিয়েছিল যে, সাক্ষীদের বয়ান অনুযায়ী অভিযোগের গুরুত্ব রয়েছে এবং তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তবে সুপ্রিম কোর্ট সেই যুক্তি খণ্ডন করে জানায়, অপরাধমূলক তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত উপাদান এই অভিযোগে অনুপস্থিত।
প্রভাবশালীদের প্রতি সতর্কতা
শীর্ষ আদালত কঠোর ভাষায় জানায় যে, পুলিশ কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠীর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কাজ করতে পারে না। যে মামলার কোনো আইনি ভিত্তি নেই, তা শুধুমাত্র কারোর সামাজিক বা রাজনৈতিক প্রতিপত্তির কারণে টেনে নিয়ে যাওয়া ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। এই রায়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ আদালত বাক-স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত হেনস্তার বিরুদ্ধে একটি কড়া বার্তা দিল।



