
ভারতের বিচার ব্যবস্থায় এক নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে। দীর্ঘ শুনানি আর বছরের পর বছর ধরে চলা মামলার জট থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্তি দিতে কঠোর অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে সুপ্রিম কোর্টে আর কোনো মামলার শুনানি ‘অন্তহীন’ (Endless) সময় ধরে চালানো যাবে না। অর্থাৎ, এখন থেকে প্রতিটি মামলা শেষ করার জন্য আইনজীবীদের নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে চলতে হবে।
প্রধান বিচারপতির কড়া বার্তা দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এই ঐতিহাসিক সংস্কারের ঘোষণা করেছেন। তাঁর মতে, আইনজীবীদের লম্বা চওড়া যুক্তি আর শুনানির নামে অহেতুক সময় নষ্ট বিচার প্রক্রিয়ার অন্যতম প্রধান বাধা। বিশেষ করে দরিদ্র মানুষ বা যারা জেলের ভেতরে থেকে জামিনের জন্য দিন গুনছেন, তাঁদের জন্য এই বিলম্ব এক বড় অভিশাপ। প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আদালতের মূল্যবান সময় প্রতিটি মামলার জন্য সুষমভাবে বণ্টন করা হবে।
কী থাকছে নতুন নিয়মে? সুপ্রিম কোর্ট একটি বিশেষ গাইডলাইন বা ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর’ (SOP) জারি করেছে। এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী:
-
সময় নির্ধারণ: শুনানির অন্তত একদিন আগে আইনজীবীদের লিখিতভাবে জানাতে হবে যে তাঁরা নিজেদের মৌখিক যুক্তি উপস্থাপনের জন্য ঠিক কতটুকু সময় চান।
-
সংক্ষিপ্ত নোট: শুনানির তিন দিন আগে সর্বোচ্চ ৫ পাতার একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ (Written Note) আদালতে জমা দিতে হবে, যার একটি কপি অন্য পক্ষকেও দিতে হবে।
-
সবার জন্য সমান নিয়ম: বড় বড় সিনিয়র অ্যাডভোকেট থেকে শুরু করে ‘অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ড’ পর্যন্ত সকল আইনজীবীর জন্যই এই নিয়ম বাধ্যতামূলক।
কেন এই পরিবর্তন? ভারতের আদালতে এমন অনেক নজির আছে যেখানে একটি বড় মামলার শুনানি মাসের পর মাস ধরে চলেছে। এতে অন্য গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলো অবহেলিত রয়ে যেত। নতুন এই নিয়মের ফলে: ১. বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত হবে এবং সময়ের অপচয় কমবে। ২. বিচারকরা প্রতিদিন আরও বেশি সংখ্যক মামলা শোনার সুযোগ পাবেন। ৩. দরিদ্র ও জরুরি ভিত্তিতে জামিন প্রত্যাশী ব্যক্তিদের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি হবে। ৪. আইনজীবীরা আরও প্রস্তুতি নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সারগর্ভ যুক্তি পেশ করতে বাধ্য হবেন।
সাধারণ মানুষের জন্য এর গুরুত্ব বিচার ব্যবস্থায় এই পরিবর্তনের ফলে সাধারণ মানুষের হয়রানি অনেকটা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। অনেক সময় বিচার পেতে পেতে বাদীর আয়ু শেষ হয়ে যায়—এই আক্ষেপ মেটাতেই শীর্ষ আদালতের এই উদ্যোগ। সময় এবং ন্যায়বিচারকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হবে। ২০২৬ সাল থেকে কার্যকর হওয়া এই নিয়ম ভারতীয় আইন ব্যবস্থার ইতিহাসে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে।



