ইভেন্ট

পূর্বাঞ্চলীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতির পঞ্চদিবসের উৎসব: পূর্বোদয় সাহিত্য উৎসব ২০২৫-২৬

কলকাতা: প্রথম বছরের বিপুল জনপ্রিয়তাকে মাথায় রেখে, ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল অ্যান্ড কালচারাল স্টাডিজ (ISCS)-এর উদ্যোগে চলতি অর্থবছরে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ‘পূর্বোদয় সাহিত্য উৎসব’। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তিন দিনের উৎসবের পর, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এই বিশেষ আয়োজনটি পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২৪ নভেম্বর শুরু হয়ে উৎসবটি চলবে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত।

উৎসবের বিশেষত্ব ও মূল লক্ষ্য

আয়োজক সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, পূর্বোদয় সাহিত্য উৎসব ভারতের অন্যান্য সাহিত্য উৎসবের থেকে একদম ভিন্ন চরিত্রের। এই উৎসব মূলত পূর্ব ভারতের আটটি রাজ্যকে কেন্দ্র করে আয়োজিত— পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, বিহার, উত্তরপ্রদেশের পূর্বাঞ্চল, সিকিম, অসম এবং ত্রিপুরা।

এই রাজ্যগুলির নিজস্ব ভাষা, আঞ্চলিক উপভাষা-কেন্দ্রিক সাহিত্য, শিল্প এবং সংস্কৃতিকে একটি অভিন্ন মঞ্চে তুলে আনাই উৎসবের প্রধান লক্ষ্য। ভারতের পূর্বের এই আট রাজ্যের প্রতিষ্ঠিত সাহিত্যিক, গবেষক, শিল্পী এবং নতুন প্রতিভারা এই উৎসবে সম্মিলিত হবেন। এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রবীণদের পাশাপাশি নতুন কবি, সাহিত্যিক, নাট্যকর্মী, অনুবাদক এবং সাংস্কৃতিক কর্মীদের এক মঞ্চে এনে সাংস্কৃতিক লালিত্যের মাধ্যমে এক নতুন সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক পৃষ্ঠভূমি গড়ে তোলা। কিশোর ও যুব সম্প্রদায়কে সংযুক্ত করতে উৎসবে আলোচনা পর্বের পাশাপাশি থাকছে নানা ধরনের প্রতিযোগিতা ও কর্মশালা।

পঞ্চদিবসের অনুষ্ঠানসূচি: থিম ও আকর্ষণ

উৎসবে প্রত্যেকটি দিনকে একটি বিশেষ রঙ ও থিমের মাধ্যমে আখ্যায়িত করা হয়েছে:

১. ২৪ নভেম্বর (সোমবার) – সাদা-কালো দিন:

  • উৎসর্গ: বাংলার উত্তমকুমার, আসামের ভূপেন হাজারিকা এবং পরিচালক ঋত্বিক ঘটককে।
  • উদ্বোধন: পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল ড. সি ভি আনন্দ বোস।
  • আকর্ষণ: চলচ্চিত্রে সাহিত্যের অবদান নিয়ে আলোচনা, ক্যুইজ কম্পিটিশন, ফটোগ্রাফি কর্মশালা এবং একটি সংস্কৃত নাটক মঞ্চস্থ হবে (প্রবেশ অবাধ)।

২. ২৫ নভেম্বর (মঙ্গলবার) – গোলাপি দিবস (পিঙ্ক ডে):

  • থিম: নারী ক্ষমতায়ন ও সাহিত্য জগতে নারীদের অবদান।
  • আকর্ষণ: এই বিষয়কে কেন্দ্র করে আলোচনা চক্র, আট রাজ্যের আঞ্চলিক পরিধানভিত্তিক ফ্যাশন শো এবং ছৌ নাচের অনুষ্ঠান।

৩. ২৬ নভেম্বর (বুধবার) – তিরঙ্গা দিবস:

  • থিম: সংবিধান দিবস (১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর সংবিধান গ্রহণকে স্মরণ করে) এবং সাহিত্যে স্বাধীনতা সংগ্রাম।
  • আকর্ষণ: এই বিষয় নিয়ে আলোচনা সভা, স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের জন্য বসে আঁকো প্রতিযোগিতা, এবং শোভাবাজার প্রতিবিম্বের প্রযোজনায় পূর্ণাঙ্গ নাটক ‘রাসবিহারী’।

৪. ২৭ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) – শ্বেতবর্ণ দিবস:

  • থিম: বিশ্ব শান্তি ও সাহিত্যকে স্মরণ (নোবেল পিস প্রাইজ ডে)।
  • আকর্ষণ: বিশেষ আলোচনা চক্র এবং স্কুল পড়ুয়াদের জন্য পোস্টার তৈরির প্রতিযোগিতা।

৫. ২৮ নভেম্বর (শুক্রবার) – লাল দিবস (রেড ডে):

  • থিম: বিজ্ঞানচর্চা ও লালগ্রহ মঙ্গল (সাহিত্যে বিজ্ঞানচর্চার কথা মাথায় রেখে)।
  • আকর্ষণ: এই বিষয়ের ওপর আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

প্রতিটি দিনেই সর্বসাধারণের জন্য ফটোগ্রাফি কর্মশালা থাকবে।

আয়োজক, সহযোগী ও অনুষ্ঠানস্থল

পূর্বোদয় সাহিত্য উৎসবের আয়োজক সংস্থা হল— ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল অ্যান্ড কালচারাল স্টাডিজ (ISCS) এবং মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইনস্টিটিউট অব এশিয়ান স্টাডিজ। সহযোগী সংস্থা হিসেবে রয়েছে অরবিন্দ ভবন, আই সি এস এস আর (ICSSR)। নলেজ পার্টনার হিসেবে রয়েছে ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট ও কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় নালন্দা।

পাঁচ দিনের এই বৃহৎ উৎসবটি অনুষ্ঠিত হবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেন্টার (আই সি সি আর), ৯এ হো চি মিন সরণি, কলকাতা – ৭০০০৭১-এ।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: এই উৎসব সর্বসাধারণের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত এবং কোনো রকম প্রবেশমূল্য নেই। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও কোনো প্রবেশমূল্য নেওয়া হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button