ব্যবসা পরিচালনার জন্য সফটওয়্যার কেনা সংস্থা ‘ভোক্তা’ নয়, গ্রাহক সুরক্ষা আইনে মামলা করা যাবে না: সুপ্রিম কোর্ট

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে জানিয়েছে যে, কোনো কোম্পানি যদি তার ব্যবসা পরিচালনা বা স্বয়ংক্রিয়করণের (automate) জন্য সফটওয়্যার কেনে, তবে তারা গ্রাহক সুরক্ষা আইন, ১৯৮৬ (Consumer Protection Act, 1986) অনুযায়ী ‘ভোক্তা’ (Consumer) হিসেবে বিবেচিত হবে না। ফলে তারা সেই সফটওয়্যার বা পরিষেবা সংক্রান্ত কোনো ত্রুটির জন্য গ্রাহক আদালতে মামলা করতে পারবে না।
বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চ এই রায় দিয়েছে। আদালত বলেছে যে, কোম্পানির বাণিজ্যিক প্রক্রিয়াগুলিকে সুবিন্যস্ত করার জন্য যে লেনদেন করা হয়, তা একটি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে (commercial purpose) কেনা বা পরিষেবা নেওয়ার শামিল। গ্রাহক সুরক্ষা আইনের ২(১)(ঘ) ধারা অনুযায়ী, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে কেনা বা পরিষেবা নেওয়া ‘ভোক্তা’ সংজ্ঞার বাইরে পড়ে।
এই মামলাটি একটি মেডিকেল ডিভাইস আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক সংস্থা ‘পলি মেডিকিউর লিমিটেড’ (Poly Medicure Ltd.)-এর করা অভিযোগ থেকে শুরু হয়। তারা ‘Brillio Technologies’-এর থেকে একটি সফটওয়্যার লাইসেন্স কিনেছিল। সফটওয়্যারটি ঠিকমতো কাজ না করায় তারা পরিষেবার ঘাটতির অভিযোগ তুলে ক্ষতিপূরণ চেয়ে গ্রাহক আদালতে মামলা করে।
রাজ্য এবং জাতীয় উভয় গ্রাহক কমিশনই জানিয়েছিল যে, সফটওয়্যারটি ব্যবসার বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সুবিধার্থে কেনা হয়েছিল, তাই সংস্থাটি ‘ভোক্তা’ নয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে ‘পলি মেডিকিউর’ সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছিল। তাদের যুক্তি ছিল, সফটওয়্যারটি শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য কেনা হয়েছিল, পুনরায় বিক্রির জন্য নয়, তাই এটি বাণিজ্যিক লেনদেন হিসেবে গণ্য হতে পারে না।
কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট সেই যুক্তি খারিজ করে দেয়। আদালত সফটওয়্যারটির প্রকৃতি বিশ্লেষণ করে দেখে যে এটি রপ্তানি সংক্রান্ত নথি তৈরি, চালান ট্র্যাক করা এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার মতো কাজগুলিতে ব্যবহৃত হচ্ছিল—যা সরাসরি কোম্পানির ব্যবসার লাভের সঙ্গে যুক্ত।
আদালত স্পষ্ট করে বলেছে যে, সফটওয়্যার কেনার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ব্যবসার প্রক্রিয়াগুলিকে স্বয়ংক্রিয় করে সময় বাঁচানো, খরচ কমানো এবং দক্ষতা বৃদ্ধি করা, যা শেষ পর্যন্ত মুনাফা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। তাই এই লেনদেনটি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে এবং সংস্থাটি গ্রাহক সুরক্ষা আইনের অধীনে ‘ভোক্তা’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না।



