
কেরালার পবিত্র সাবারিমালা মন্দিরে ভক্তদের ভাবাবেগকে কাজে লাগিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। মন্দিরের প্রসাদী ঘি বা ‘আদিয়া সিষ্ঠম ঘি’ বিক্রির অর্থ নয়ছয় করার অভিযোগে সরব হয়েছে কেরালা উচ্চ আদালত। বিচারপতি রাজা বিজয়রাঘবন ভি এবং বিচারপতি কে. ভি. জয়কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ এই ঘটনাকে কেবল হিসাবের ভুল নয়, বরং একটি “সুসংগঠিত অপরাধ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
দুর্নীতির নেপথ্যে যা ঘটেছে
সাবারিমালা মন্দিরে ‘নৈয্যাভিষেকম’ উৎসর্গের পর অবশিষ্ট ঘি বা ‘আদিয়া সিষ্ঠম ঘি’ ভক্তদের কাছে বিক্রি করা হয়। ১০০ মিলিলিটারের প্রতিটি প্যাকেটের দাম ১০০ টাকা। এই প্যাকেট তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয় বাইরের ঠিকাদারকে, আর ঘি ও প্যাকিং সরঞ্জাম সরবরাহ করে ট্রাভাঙ্কোর দেবাস্বম বোর্ড।
ভিজিল্যান্স রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ১৭ নভেম্বর ২০২৫ থেকে ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫—মাত্র ৪০ দিনের ব্যবধানে মন্দিরের কাউন্টার থেকে বিক্রিত ঘিয়ের বিশাল অঙ্কের টাকা কোষাগারে জমা পড়েনি। সব মিলিয়ে প্রায় ৩৫ লাখ টাকার গরমিল ধরা পড়েছে। এর মধ্যে ১৬,৬২৮টি প্যাকেটের বিক্রয়লব্ধ ১৩,৬৭,৯০০ টাকা গায়েব এবং স্টক ভেরিফিকেশনে আরও ২২,৫৬৫টি প্যাকেটের হদিস পাওয়া যায়নি, যার বাজারমূল্য প্রায় ২২,৬৫,৫০০ টাকা।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও কঠোর পদক্ষেপ
উচ্চ আদালত সাফ জানিয়েছে, এত অল্প সময়ে এত বড় অঙ্কের অর্থ লোপাট হওয়া মন্দির কর্তৃপক্ষের গভীর এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ। আদালতের মতে, উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের যোগসাজশ বা চরম উদাসীনতা ছাড়া এই স্তরের দুর্নীতি সম্ভব নয়।
তদন্তে উঠে এসেছে যে, সুনীল কুমার পট্টি নামে এক দেবাস্বম কর্মচারী রসিদ ছাড়াই ঘি বিক্রি করছিলেন এবং বিক্রির টাকা যথাসময়ে জমা দেননি। তাকে ইতিমধ্যেই সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। আদালত এই ঘটনাকে ‘ক্রিমিনাল মিসঅপ্রোপ্রিয়েশন’ বা অপরাধমূলক অর্থ আত্মসাৎ হিসেবে গণ্য করেছে।
তদন্তের নির্দেশ
কেরালা উচ্চ আদালত ভিজিল্যান্স অ্যান্ড অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরোকে (VACB) এই ঘটনায় পৃথক মামলা দায়ের করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালানোর নির্দেশ দিয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।



