
একটি বড় ধরনের অর্থ পাচার (Money Laundering) সংক্রান্ত তদন্তের প্রেক্ষিতে দিল্লির একটি আদালত আল-ফালাহ ইউনিভার্সিটির (Al-Falah University) চেয়ারম্যান জাওয়াদ আহমেদ সিদ্দিকীকে (Jawad Ahmad Siddiqui) এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। প্রায় ₹৪১৫ কোটি টাকার এই আর্থিক দুর্নীতির মামলায় সিদ্দিকীকে ১৩ দিনের জন্য ইডি (ED) হেফাজতে রাখা হবে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ১৮ নভেম্বর, যখন ইডি প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA)-এর বিধান প্রয়োগ করে জাওয়াদ আহমেদ সিদ্দিকীকে গ্রেফতার করে। অভিযোগ, ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ তার শিক্ষাগত মর্যাদা ও স্বীকৃতি সম্পর্কে জাল তথ্য ও মিথ্যা দাবি করে ₹৪১৫ কোটিরও বেশি অর্থ ‘অপরাধলব্ধ আয়’ (Proceeds of Crime) হিসেবে সংগ্রহ করেছে।
দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের দায়ের করা দুটি এফআইআর (FIR) থেকে এই ইসিআইআর (ECIR) বা ইডি মামলাটি উঠে আসে। এফআইআর নং ৩৩৭-এ অভিযোগ করা হয়েছে যে আল-ফালাহ ইউনিভার্সিটি তার কলেজগুলির নাক (NAAC) অ্যাক্রিডিটেশন বা স্বীকৃতি মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও মিথ্যাভাবে সেই স্বীকৃতি বজায় রাখার দাবি করেছে। অন্যদিকে, এফআইআর নং ৩৩৮-এ অভিযোগ করা হয়েছে যে বিশ্ববিদ্যালয়টি মিথ্যাভাবে ইউডিসির (UGC Act)-এর ধারা ১২(বি)-এর অধীনে স্বীকৃতির দাবি করত, যদিও তারা কখনও এর জন্য আবেদনও করেনি বা এই স্বীকৃতি পায়নি। ইউডিসি-এর মতে, আল-ফালাহ ইউনিভার্সিটি শুধুমাত্র একটি স্টেট প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি হিসাবে ধারা ২(এফ)-এর অধীনে স্বীকৃত এবং কোনও আর্থিক অনুদানের জন্য যোগ্য নয়।
ইডি আদালতে জানায়, এই মিথ্যা দাবি ও ভুল তথ্যের কারণে হাজার হাজার শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং অন্যান্য অংশীদাররা বিভ্রান্ত হয়েছেন। আর এই প্রতারণার মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠানটি বিপুল পরিমাণ টিউশন ফি এবং সংশ্লিষ্ট ফি সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে। ইডি-র আর্থিক রেকর্ড বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ইউনিভার্সিটি এবং আল-ফালাহ চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অধীনে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো ২০১৮ সাল থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে শিক্ষাগত খাত থেকে ₹৪১৫ কোটিরও বেশি আয় দেখিয়েছে, যা প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত হওয়ায় ‘অপরাধলব্ধ আয়’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তদন্তে আরও উঠে আসে যে, জাওয়াদ আহমেদ সিদ্দিকী ট্রাস্ট ও এর সমস্ত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক বিষয়ে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখতেন। এছাড়াও, শিক্ষার্থীদের ফি-এর বড় অংশ ব্যক্তিগত বা পারিবারিক স্বার্থে যেমন আমলা এন্টারপ্রাইজেস এলএলপি (Amla Enterprises LLP) এবং কারকুন কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপার্স (Karkun Construction & Developers)-এর মতো সংস্থায় সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। ইডি আদালতে আরও যুক্তি দেয় যে, তদন্তের প্রয়োজনে, অপরাধের সম্পূর্ণ পরিমাণ উদঘাটন করতে, রেকর্ড নষ্ট হওয়া আটকাতে এবং সিদ্দিকী যাতে সম্পদ নষ্ট না করতে পারেন বা পালিয়ে না যেতে পারেন, তার জন্য তাকে হেফাজতে নেওয়া আবশ্যক।
অভিযুক্তের আইনজীবীরা তাকে মিথ্যাভাবে ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করলেও, দুই পক্ষের যুক্তি শোনার পর আদালত এই বৃহৎ আর্থিক অপরাধের মাত্রার কথা বিবেচনা করে ১৩ দিনের ইডি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। বিচারকের বাসভবনে গভীর রাত পর্যন্ত এই শুনানি চলে এবং শেষমেশ রাত ১টা নাগাদ এই আদেশ জারি হয়।



