“দেশের বিচার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার চেষ্টা করবেন না”: সুপ্রিম কোর্টের নিজস্ব রায়ের বিরুদ্ধে এনজিও-র আবেদনে ভর্ৎসনা ও জরিমানা

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট একটি এনজিও (NGO)-র বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে। ওই এনজিওটি সুপ্রিম কোর্টেরই একটি পূর্বের রায় বাতিল করার জন্য সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের (Article 32) অধীনে রিট পিটিশন (Writ Petition) দাখিল করেছিল। এই ঘটনায় আদালত ক্ষোভ প্রকাশ করে সতর্ক করেছে যে, এই ধরণের পদক্ষেপ বিচার ব্যবস্থার মূল ভিত্তিকেই নাড়িয়ে দেয়।
১২ই ডিসেম্বর, ২০২৫-এর শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ, বিশেষ করে বিচারপতি বি.ভি. নাগারথনা, অত্যন্ত কড়া ভাষায় মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আপনারা সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে এমন করতে পারেন না। আমরা ক্ষুব্ধ। যদি এই ধরনের পিটিশন আসতে শুরু করে, তবে তা পুরো বিচার ব্যবস্থাকেই নাড়িয়ে দেবে। আপনারা যা দাখিল করেছেন, তার গুরুত্ব আপনারা বুঝতে পারছেন না।”
আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ, যা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার অধিকার দেয়, তা কোনোভাবেই সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায়কে চ্যালেঞ্জ করার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে না। আদালত এটিকে “সাংবিধানিক প্রতিকারের সম্পূর্ণ অপব্যবহার” এবং “বিচারবিভাগীয় শৃঙ্খলার ওপর সরাসরি আক্রমণ” বলে অভিহিত করেছে।
সমস্যা কোথায় ছিল? ১. আইনি প্রক্রিয়ার ভুল: ভারতের আইন অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের রায়ই চূড়ান্ত। যদি কোনো রায়ে ভুল থাকে, তবে তা সংশোধনের জন্য নির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে—যেমন ‘রিভিউ পিটিশন’ (Review Petition) বা তারও পরে ‘কিউরেটিভ পিটিশন’ (Curative Petition)। ২. অনুচ্ছেদের অপব্যবহার: আর্টিকেল ৩২ মূলত নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হলে তা রক্ষার জন্য ব্যবহার করা হয়। এটি সুপ্রিম কোর্টের নিজের কোনো চূড়ান্ত রায়কে চ্যালেঞ্জ করার জন্য নয়।
বিচারপতি আরও বলেন, “১ লক্ষ টাকা জরিমানা করেই আমরা বিষয়টি সীমাবদ্ধ রাখছি। এ ধরনের বিষয় এনে বিচার বিভাগকে নিচে নামাবেন না। আইনজীবীরা কি এই পরামর্শ দিচ্ছেন? আমাদের হয়তো আইনজীবীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আপনারা শিক্ষিত, আইন সচেতন নাগরিক হয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আর্টিকেল ৩২ পিটিশন দাখিল করছেন? এটা চরম অপব্যবহার। আমরা আদালত অবমাননার (Contempt) নোটিশ না দিয়ে নিজেদের সংযত রাখছি।”
আদালত উল্লেখ করেছে যে, সুপ্রিম কোর্টের রায় চূড়ান্ত এবং এর বিরুদ্ধে আপিল বা রিট পিটিশন সাধারণ নিয়মে চলে না (কিউরেটিভ বা রিভিউ পিটিশন আলাদা বিষয়)। এই ধরনের পিটিশন শুধুমাত্র আদালতের মূল্যবান সময়ই নষ্ট করে না, বরং এটি বিচার ব্যবস্থার কাঠামোর প্রতিও হুমকিস্বরূপ।
ভবিষ্যতের মামলাকারীদের জন্য একটি কড়া বার্তা দিয়ে আদালত বলেছে, “এটি একটি বার্তা হিসেবে কাজ করুক। আপনারা এই দেশের বিচার ব্যবস্থাকে টুকরো টুকরো করার চেষ্টা করতে পারেন না (You cannot try to crumble the judiciary of this country)।”
অবশেষে, আদালত এই পিটিশনটিকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং অনুচিত বলে খারিজ করে দেয় এবং এনজিও-কে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এই রায় প্রমাণ করে যে সুপ্রিম কোর্ট বিচার বিভাগের মর্যাদা ও আইনি প্রক্রিয়ার অপব্যবহার রোধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।



