
দিল্লির এক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সম্প্রতি গত ২৩ নভেম্বর কর্তব্যের পথ/ইন্ডিয়া গেট এলাকায় বায়ু দূষণ বিরোধী আন্দোলনের সময় আটক হওয়া ১০ জন বিক্ষোভকারীর জামিন মঞ্জুর করেছে। আদালত এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, এই প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে কোনো “চরমপন্থী” (Radical) বা নকশাল সম্পর্কিত সংগঠনের (“Radical Students Union” বা RSU) কোনো দৃঢ় সংযোগ পাওয়া যায়নি।
১০ জনের জামিন মঞ্জুরের কারণ
আদালত উল্লেখ করেছে যে, পুলিশ এবং তদন্তকারী সংস্থা ইতিমধ্যেই সকল ডিজিটাল প্রমাণ (যেমন: সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিও রেকর্ডিং, এবং অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন) বাজেয়াপ্ত করেছে। আদালত জানায়, আটককৃত ১০ জন বিক্ষোভকারী যে কোনো নিষিদ্ধ বা ‘চরমপন্থী/নকশাল’ সংগঠনের সদস্য, তার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আদালতের মতে, যদি অপরাধের দায় নিয়ে যথেষ্ট প্রমাণ না থাকে, তবে শুধুমাত্র অভিযোগ বা স্লোগানের ভিত্তিতে দীর্ঘ সময় ধরে “আদালতি রিমান্ডে রাখার মাধ্যমে কোনো উদ্দেশ্য পূরণ হবে না”। তাই বিনা প্রমাণে কারাগারে রাখার চেয়ে জামিন মঞ্জুর করা নিরাপদ ও যুক্তিসঙ্গত।
একজনের জামিন বাতিল
তবে, আদালত একই সঙ্গে একজন অভিযুক্তের জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।
-
কারণ: ঐ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি সরাসরি Radical Students Union (RSU)-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং তাঁর বিষয়ে এখনও তদন্ত চলছে।
-
আদালতের মত: আদালত মনে করে, এই পর্যায়ে তাঁকে জামিন দিলে, তদন্ত প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অভিযুক্ত অন্যদের সতর্ক করতে পারে বা প্রমাণ ম্যানিপুলেট করার চেষ্টা করতে পারে।
এছাড়াও, Akshay E R নামের আরেক অভিযুক্তের জামিনের অনুরোধ তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তাঁর শুনানির পরবর্তী দিন (বুধবার) ধার্য করা হয়েছে।
মামলার প্রেক্ষাপট
এই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট হলো বায়ু দূষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। কিন্তু পুলিশ দাবি করেছিল যে, আন্দোলনের সময় কিছু ব্যক্তি “প্রো-নকশাল” স্লোগান দিয়েছে। তদন্তে কিছু ব্যক্তির মোবাইলে ভিডিও, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট বা পূর্বে RSU-র সঙ্গে অংশগ্রহণের তথ্য পাওয়া গেছে বলেও তারা দাবি করে।
তবে আদালত স্পষ্ট করেছে, শুধু সম্ভাবনা বা সন্দেহ যথেষ্ট নয়, অপরাধের দায় প্রমাণের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকতে হবে। যেহেতু এই ১০ জনের ক্ষেত্রে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তাই আদালত তাদের মুক্তি দিয়েছে।



