খবরাখবর

“ক্রিমি লেয়ার” রায়ের জন্য নিজের সমাজের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলাম: বিদায় বেলায় প্রধান বিচারপতি গাভাই

ভারতের বর্তমান প্রধান বিচারপতি (CJI) বিচারপতি ভূষণ রামকৃষ্ণ গাভাই (বি আর গাভাই) তাঁর বিদায় অনুষ্ঠানে একটি খুবই ব্যক্তিগত ও গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন। তিনি জানান যে, তাঁর একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ের কারণে তাঁকে তাঁর নিজস্ব সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল।

বিদায়ী ভাষণ এবং মুখ্য বক্তব্য

বিচারপতি গাভাই তাঁর বিদায়ী সম্বোধনে উল্লেখ করেন, যখন তিনি তপশিলি জাতি (SC) সম্প্রদায়ের মধ্যে ‘ক্রিমি লেয়ার’ (Creamy Layer) সংক্রান্ত একটি রায় দিয়েছিলেন, তখন তাঁর সম্প্রদায়ের অনেকেই তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেছিলেন।

  • আলোচিত রায়: ‘ক্রিমি লেয়ার’ নীতিটি মূলত অনগ্রসর শ্রেণির (OBC) জন্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও, পরবর্তীকালে বিচারপতি গাভাইয়ের বেঞ্চ তপশিলি জাতি ও উপজাতির (SC/ST) ক্ষেত্রেও এই নীতি বিবেচনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায় দেন। এই রায়ের উদ্দেশ্য ছিল সংরক্ষণের সুবিধা যেন সম্প্রদায়ের সবচেয়ে অভাবী এবং পিছিয়ে পড়া অংশের কাছে পৌঁছায়, এবং অপেক্ষাকৃত উন্নত ও স্বচ্ছল অংশ যেন বারবার সুবিধা না নেয়।

  • সমালোচনার কারণ: তাঁর সম্প্রদায়ের অনেকের কাছে এই রায়টি ছিল সংরক্ষণের নীতির বিরুদ্ধে এবং তাঁরা মনে করেছিলেন যে এটি SC/ST সম্প্রদায়ের ন্যায্য অধিকারকে খর্ব করছে। ফলে বিচারপতি গাভাইকে তাঁর নিজস্ব সমাজের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ সমালোচনার শিকার হতে হয়।

  • ব্যক্তিগত যন্ত্রণা: বিচারপতি গাভাই বলেন, একজন বিচারক হিসেবে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন, এবং সেই সিদ্ধান্তের জন্য যখন নিজের সমাজের মানুষের কাছ থেকে তিরস্কার আসে, তখন সেটি মানসিকভাবে যন্ত্রণাদায়ক হয়। তবে তিনি জোর দেন যে একজন বিচারককে অবশ্যই আইনের শাসন এবং সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে হয়, ব্যক্তিগত আবেগ বা সম্প্রদায়ের চাপ সেখানে গৌণ।

বিচারপতি গাভাইয়ের অবদান

বিচারপতি বি আর গাভাই গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে সুপ্রিম কোর্টে বিচারকের আসনে ছিলেন এবং তাঁর মেয়াদকালে তিনি বহু গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক এবং মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত মামলার রায় দিয়েছেন। তাঁর এই স্বীকারোক্তি বিচারকদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য যে কঠিন পথ অতিক্রম করতে হয়, সেই বিষয়টিই তুলে ধরে।

বিচারপতি গাভাইয়ের এই সাহসী মন্তব্য বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সংঘাতের একটি বিরল উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button