Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
খবরাখবর

দিল্লি দাঙ্গা: পুলিশকে বন্দুক দেখানো শাহরুখ পাঠানের জামিন ফের নাকচ আদালতের

২০২০ সালের উত্তর-পূর্ব দিল্লি দাঙ্গার অন্যতম আলোচিত মুখ শাহরুখ পাঠানের নিয়মিত জামিনের আবেদন আবারও খারিজ করে দিয়েছে দিল্লির একটি আদালত। সম্প্রতি দিল্লির কারকারডুমা আদালতের অতিরিক্ত সেশনস বিচারক সমীর বাজপেয়ী এই নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পরিস্থিতির কোনও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না হওয়ায় অভিযুক্তকে জামিন দেওয়ার কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও রায়

বিচারক সমীর বাজপেয়ী তার পর্যবেক্ষণে জানান যে, ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর দিল্লি হাইকোর্ট যখন শাহরুখ পাঠানের জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিল, সেই সময়ের তুলনায় বর্তমান মামলার প্রেক্ষাপটে কোনও বিশেষ পরিবর্তন ঘটেনি। উচ্চ আদালত যেখানে জামিন নাকচ করেছে, সেখানে ট্রায়াল কোর্টের পক্ষে ভিন্ন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয় বলে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়।

প্রেক্ষাপট ও ভাইরাল সেই ছবি

এই মামলার সূত্রপাত ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে উত্তর-পূর্ব দিল্লির ভয়াবহ দাঙ্গার সময়। ওই সময় একটি ছবি এবং ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়, যেখানে দেখা যায় শাহরুখ পাঠান নামের এক যুবক দিল্লি পুলিশের কনস্টেবল দীপক দাহিয়ার দিকে প্রকাশ্য দিবালোকে বন্দুক তাক করে আছেন। এই ঘটনার পরেই উত্তাল হয়ে ওঠে দেশ। ২০২০ সালের ৩ মার্চ উত্তরপ্রদেশ থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে এবং তখন থেকেই তিনি কারাবন্দি।

আইনজীবীর যুক্তি বনাম প্রসিকিউশন

আদালতে পাঠানের আইনজীবী যুক্তি দেন যে, তার মক্কেল গত চার বছরেরও বেশি সময় ধরে জেলে রয়েছেন। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৭ ধারায় (খুনের চেষ্টা) সর্বোচ্চ সাজা ১০ বছর, যার অর্ধেকের বেশি সময় তিনি ইতিমধ্য়েই কাটিয়ে ফেলেছেন। তাই ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩৬এ ধারা অনুযায়ী তাকে জামিন দেওয়া উচিত।

অন্যদিকে, সরকারি আইনজীবী (প্রসিকিউশন) এই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন। তারা আদালতকে জানান:

  • এটি অভিযুক্তের ১১তম জামিন আবেদন।

  • এর আগে ট্রায়াল কোর্ট ও হাইকোর্ট বহুবার তার আবেদন খারিজ করেছে।

  • শাহরুখ পাঠানের বিরুদ্ধে দিল্লি দাঙ্গা সংক্রান্ত আরও একটি পৃথক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

নতুন আইনের প্রভাব (BNSS)

আদালত তার রায়ে নতুন ‘ভারতীয় নাগরিক নিরাপত্তা সংহিতা’ (BNSS)-এর ৪৭৯ ধারার কথা উল্লেখ করে। এই ধারা অনুযায়ী, যদি কোনও ব্যক্তি একাধিক মামলায় বিচারাধীন থাকে, তবে শুধুমাত্র সম্ভাব্য সাজার অর্ধেক সময় জেলে কাটানোর ভিত্তিতে তাকে জামিন দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। যেহেতু পাঠানের বিরুদ্ধে অন্য একটি মামলাও চলছে, তাই তিনি এই আইনি সুবিধা পেতে পারেন না।

সব দিক বিবেচনা করে আদালত জামিনের আবেদনটি খারিজ করে দেয় এবং দ্রুত মামলার বিচারপ্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button