পারস্পরিক সম্মতিতে বিবাহবিচ্ছেদে ১ বছরের বিচ্ছেদ আর বাধ্যতামূলক নয়: দিল্লি হাইকোর্টের যুগান্তকারী রায়

স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সম্মতিতে বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা অবসান করল দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, হিন্দু বিবাহ আইন, ১৯৫৫ অনুযায়ী বিবাহবিচ্ছেদের পিটিশন জমা দেওয়ার আগে দম্পতিকে বাধ্যতামূলকভাবে এক বছর আলাদা থাকতে হবে— এই নিয়ম সব ক্ষেত্রে কঠোরভাবে প্রযোজ্য নয়। উপযুক্ত কারণ থাকলে আদালত এই সময়সীমা শিথিল করতে পারে।
রায়ের প্রেক্ষাপট: বুধবার দিল্লি হাইকোর্টের তিন বিচারপতির একটি পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ (Full Bench) এই রায় প্রদান করে। বিচারপতি নবীন চাওলা, বিচারপতি অনুপ জয়রাম ভাম্বানি এবং বিচারপতি রেণু ভাটনগরের বেঞ্চ জানায়, হিন্দু বিবাহ আইনের ১৩বি(১) ধারায় উল্লিখিত ‘এক বছর আলাদা থাকার’ বিষয়টি ‘ডিরেক্টরি’ (পরামর্শমূলক), ‘ম্যান্ডেটরি’ (বাধ্যতামূলক) নয়। উপযুক্ত ক্ষেত্রে পারিবারিক আদালত বা হাইকোর্ট এই সময়সীমা মকুব বা ‘ওয়েভ’ (Waive) করতে পারে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ: আদালত এই রায়ে হিন্দু বিবাহ আইনের ১৪(১) ধারার প্রসঙ্গ টেনেছে। এই ধারায় বলা হয়েছে, বিশেষ কোনো চরম কষ্ট বা বিশেষ পরিস্থিতির ক্ষেত্রে বিয়ের এক বছরের মধ্যেও বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করা যায়। হাইকোর্টের মতে, আইনের ১৩বি(১) ধারার শর্তটিকে ১৪(১) ধারার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে পড়তে হবে। যদি আদালত সন্তুষ্ট হয় যে দম্পতি চরম কষ্টের সম্মুখীন হচ্ছেন এবং তাঁদের পুনরায় একত্রে বসবাসের কোনো সম্ভাবনা নেই, তবে এক বছরের অপেক্ষার নিয়ম শিথিল করা যাবে।
বেঞ্চ আরও স্পষ্ট করেছে যে, বিবাহবিচ্ছেদের প্রথম পিটিশন (First Motion) পেশ করার জন্য যে এক বছর আলাদা থাকার নিয়ম রয়েছে, তা মকুব করার অর্থ এই নয় যে দ্বিতীয় দফার (Second Motion) ৬ মাসের অপেক্ষার নিয়মটি আপনাআপনি বাতিল হয়ে যাবে। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আদালত দুটি সময়সীমা বা কুলিং-অফ পিরিয়ডই মকুব করে তাৎক্ষণিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদের ডিক্রি দিতে পারে।
গুরুত্ব: এই রায়ের ফলে সেই সমস্ত দম্পতি বড়সড় স্বস্তি পেলেন যারা বিয়ের পরপরই বুঝতে পারেন যে তাঁদের পক্ষে একত্রে থাকা সম্ভব নয়। আগে তাঁদের আইনিভাবে আলাদা হতে অন্তত এক বছর অপেক্ষা করতে হতো, যা তাঁদের মানসিক যন্ত্রণা আরও বাড়িয়ে দিত। দিল্লি হাইকোর্টের এই পদক্ষেপ আধুনিক বিচার ব্যবস্থায় মানবিক ও বাস্তবমুখী দৃষ্টিভঙ্গির এক অনন্য উদাহরণ।



