নাগরিক হওয়ার আগে ভোটার তালিকায় নাম: সোনিয়া গান্ধীকে নোটিশ জারি করল দিল্লির আদালত
অভিযোগ খারিজের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে করা আবেদনে জবাব তলব, কোর্ট রেকর্ড তলব

কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে ভারতীয় নাগরিকত্ব অর্জন করার আগেই ভোটার তালিকায় নাম যুক্ত করার অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলায় দিল্লির আদালত তাঁকে এবং দিল্লি পুলিশকে নোটিশ জারি করেছে। এই বিষয়টি দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগের পটভূমি
বিকাশ ত্রিপাঠী নামের এক আবেদনকারী অভিযোগ দায়ের করে দাবি করেন যে, সোনিয়া গান্ধীর নাম ১৯৮০ সালে নয়াদিল্লি লোকসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। অথচ, তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় নাগরিকত্ব লাভ করেন ১৯৮৩ সালের এপ্রিল মাসে।
অভিযোগকারীর দাবি, ভোটার তালিকায় নাম তোলার সময় তিনি ভারতের নাগরিক ছিলেন না। যদি তাঁর নাম সেই সময়ে ভোটার তালিকায় থেকে থাকে, তবে সম্ভবত জাল বা ভুল দলিলপত্র (Forged Documents) ব্যবহার করা হয়েছিল, যা সংবিধান ও নির্বাচন আইন উভয়ের পরিপন্থী।
আদালতের প্রাথমিক রায় এবং পুনর্বিবেচনা
এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে, প্রথমে ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে দিল্লির রাউজ অ্যাভিনিউ কোর্ট রায় দেয় যে, মামলা দায়েরের আবেদনটি গ্রহণযোগ্য নয় এবং সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়েরের নির্দেশ দেওয়া যাবে না। অভিযোগকারীর আবেদন খারিজ হয়ে যায়।
তবে, আবেদনকারী বিকাশ ত্রিপাঠী এই রায়ের বিরুদ্ধে পর্যালোচনা বা পুনর্বিচার (Revision) আবেদন দায়ের করেন।
৯ ডিসেম্বর ২০২৫-এ, রাউজ অ্যাভিনিউ কোর্ট সেই পর্যালোচনার আবেদনটি গ্রহণ করে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে:
-
নোটিশ জারি: আদালত সোনিয়া গান্ধী এবং দিল্লি পুলিশ—উভয় পক্ষকেই নোটিশ জারি করেছে এবং তাদের কাছে এই বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে।
-
কোর্ট রেকর্ড তলব: আদালত একইসঙ্গে এই মামলার পুরো ট্রায়াল কোর্ট রেকর্ড (TCR) তলব করার নির্দেশ দিয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
আদালত এই মামলায় পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে ৬ জানুয়ারি ২০২৬। এই সময়ের মধ্যে সোনিয়া গান্ধীর নাগরিকত্বের রেকর্ড, ১৯৮০-৮১ সালের ভোটার তালিকার তথ্য এবং অভিযোগের সপক্ষে অন্যান্য প্রাসঙ্গিক প্রমাণাদি আদালতে দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিতর্কের মূল বিষয়
এই মামলাটি একটি মৌলিক আইনি প্রশ্ন তুলেছে:
-
নাগরিকত্ব বনাম ভোটাধিকার: ভোটার তালিকায় নাম যুক্ত হওয়ার জন্য ব্যক্তিকে অবশ্যই ভারতীয় নাগরিক হতে হবে। অভিযোগকারীর বক্তব্য হলো, নাগরিক হওয়ার প্রায় তিন বছর আগে কীভাবে তাঁর নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত হলো?
-
দলিল জালিয়াতির প্রশ্ন: যদি এই সময় ব্যবধান সত্য হয়, তবে ভোটার তালিকায় নাম যুক্ত করতে ভুল বা জাল নথি ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, সেই বিষয়টিই এখন আদালতের মূল বিবেচ্য বিষয়।
সোনিয়া গান্ধীর মতো একজন শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এবং আদালতের তা পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্তটি দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং ভোটার তালিকার সঠিকতা সংক্রান্ত বৃহত্তর প্রশ্ন তৈরি করেছে।



