সুপ্রিম কোর্ট আর ‘সুপ্রিম’ থাকার যোগ্য নয়: বাবরি মসজিদ ও ট্রিপল তালাকের রায় প্রসঙ্গে জামিয়াত প্রধানের তীব্র মন্তব্য

দেশের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টকে আর ‘সুপ্রিম’ নামে ডাকার যোগ্য নয়—এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন জামিয়াত উলামা-ই-হিন্দ-এর সভাপতি মাওলানা মাহমুদ মাদানি। বাবরি মসজিদ এবং ট্রিপল তালাক সংক্রান্ত মামলার রায়কে উদ্ধৃত করে তিনি এই তীব্র সমালোচনা করেন।
মধ্যপ্রদেশের ভোপালে জামিয়াত উলামা-ই-হিন্দ-এর জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে বক্তব্য রাখার সময় মাওলানা মাদানি দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং উদ্বেগজনক বলে বর্ণনা করেন। তাঁর অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরে দেশের বিভিন্ন আদালত সরকারের চাপে কাজ করছে বলে মনে হচ্ছে।
মাওলানা মাদানি বলেন, “বাবরি মসজিদ, ট্রিপল তালাক এবং আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায়ের পর এটা স্পষ্ট যে আদালতগুলো সরকারের চাপে কাজ করছে। এর আগেও এমন বেশ কিছু নজির রয়েছে যা আদালতের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট তখনই ‘সুপ্রিম’ বা সর্বোচ্চ উপাধির যোগ্য যখন এটি সংবিধান অনুসরণ করে এবং আইনকে সমুন্নত রাখে। যদি আদালত তা না করে, তবে এর ‘সুপ্রিম’ নামে ডাকার কোনো অধিকার নেই।”
আদালতের সততা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি জামিয়াত প্রধান ‘ধর্ম পরিবর্তন বিরোধী আইন’ বা অ্যান্টি-কনভার্সন ল-এরও কড়া সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য, দেশের সংবিধান নাগরিকদের ধর্ম পালনের স্বাধীনতার অধিকার দেয়। কিন্তু এই নতুন আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সেই মৌলিক অধিকারটি খর্ব করা হচ্ছে।
মাওলানা মাদানি অভিযোগ করেন যে, ধর্ম পরিবর্তন বিরোধী আইনকে এমনভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে যাতে ধর্ম পালন ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ মনে হয়। অন্যদিকে, ‘ঘর ওয়াপসি’-র নামে যারা মানুষকে অন্য ধর্মে ধর্মান্তরিত করছে, তাদের জন্য কোনো আইনি বাধা নেই, তাদের কোনো প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে না। তিনি দাবি করেন, এই বৈষম্য দেশের সংবিধানে প্রদত্ত স্বাধীনতার অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করছে। মাওলানা মাহমুদ মাদানির এই মন্তব্য দেশের বিচার ব্যবস্থা এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্কের নতুন জন্ম দিয়েছে।



