‘বার্তা পাঠানোর সেরা সকাল’: দিল্লির বিস্ফোরণের আবহে UAPA মামলায় জামিন খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট

সাম্প্রতিক দিল্লি বিস্ফোরণের পরের দিনই একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় শুনানি করে সুপ্রিম কোর্ট এক অভিযুক্তের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইন UAPA (Unlawful Activities (Prevention) Act)-এর অধীনে দায়ের করা এই মামলায়, আদালত কঠোর অবস্থান নিয়ে পর্যবেক্ষণ করেছে যে, অভিযুক্তের কার্যকলাপ দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অভিপ্রায় নির্দেশ করে।
আদালত এই মামলায় অভিযুক্তকে জামিন দিতে অস্বীকার করেছে। এই রায়ের পিছনে অন্যতম প্রধান কারণ ছিল, অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করেছিলেন, যেখানে ISIS-এর পতাকার প্রায় অনুরূপ একটি পতাকা দেখা গিয়েছিল। এই ধরনের কার্যকলাপকে অত্যন্ত গুরুতর বলে মনে করেছে আদালত।
হোয়াটসঅ্যাপে ‘বার্তা পাঠানোর সেরা সকাল’
মামলার শুনানির সময়, বিস্ফোরণের ঘটনার ঠিক পরেই এই জামিনের আবেদনটি সামনে আসে। আদালত মামলার সংবেদনশীলতা এবং অভিযুক্তের আচরণ উভয়কেই গুরুত্ব দিয়েছে। বিচারপতিরা অভিযুক্তের ডিজিটাল কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করে, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে উস্কানিমূলক কার্যকলাপ চালানোর প্রমাণ পান।
আদালত বিশেষত লক্ষ্য করে যে, অভিযুক্তের তৈরি করা গ্রুপটি একটি নিষিদ্ধ সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের প্রতীকের কাছাকাছি প্রতীক ব্যবহার করছিল। এই ধরনের কার্যকলাপের মাধ্যমে যে বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, তা দেশের নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার জন্য গুরুতর হুমকি বলে বিবেচিত হয়েছে।
UAPA আইনের অধীনে জামিন পাওয়ার জন্য, একজন অভিযুক্তকে প্রমাণ করতে হয় যে তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলি প্রাথমিকভাবে বিশ্বাসযোগ্য (prima facie true) নয়। এই মামলায়, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মতো ডিজিটাল প্রমাণের উপস্থিতি আদালতের কাছে অভিযোগটিকে প্রাথমিকভাবে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে।
সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই ধরনের পরিস্থিতিতে যেখানে অভিযুক্তের কার্যকলাপ স্পষ্টতই একটি জঙ্গি সংগঠনের দিকে ইঙ্গিত করে এবং জনমনে অস্থিরতা সৃষ্টির ক্ষমতা রাখে, সেখানে জামিন দেওয়া সমাজের জন্য একটি ভুল বার্তা দেবে। এই রায় আবারও প্রমাণ করল যে, সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের ক্ষেত্রে UAPA আইনের কঠোরতা আদালত বজায় রাখছে।



