
নয়াদিল্লি: পথ কুকুরের কামড়ের ক্রমবর্ধমান ঘটনাকে ‘উদ্বেগজনক’ আখ্যা দিয়ে এক যুগান্তকারী নির্দেশ জারি করল দেশের সুপ্রিম কোর্ট। দেশের সমস্ত রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে অবিলম্বে স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, বাস ডিপো, রেলস্টেশন এবং স্পোর্টস কমপ্লেক্সের মতো প্রতিষ্ঠান চত্বর থেকে পথ কুকুরদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, প্রাতিষ্ঠানিক চত্বরে কুকুরের কামড় এবং জলাতঙ্কের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।
নির্দেশের মূল দিকগুলি:
১. স্থানান্তর: শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং অন্যান্য জনবহুল স্থান থেকে পথ কুকুরদের ধরে নির্দিষ্ট আশ্রয়কেন্দ্রে (ডগ শেল্টার) সরিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
২. টিকাকরণ ও নির্বীজকরণ: অ্যানিমেল বার্থ কন্ট্রোল (ABC) নিয়ম মেনে কুকুরদের যথাযথভাবে নির্বীজকরণ এবং জলাতঙ্কের টিকা দিতে হবে।
৩. একই স্থানে মুক্তি নয়: সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ হলো, এই সমস্ত জায়গা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া কুকুরদের নির্বীজকরণের পর আর ওই একই স্থানে ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, এমনটা করলে চত্বরগুলিকে সুরক্ষিত করার মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে।
৪. চত্বর সুরক্ষিত করা: রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে দুই সপ্তাহের মধ্যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান (সরকারি ও বেসরকারি) চিহ্নিত করতে হবে এবং আট সপ্তাহের মধ্যে যথাযথ প্রাচীর বা বেড়া দিয়ে চত্বর সুরক্ষিত করার ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে পথ কুকুরদের প্রবেশ ঠেকানো যায়। ৫. জাতীয় সড়ক: আদালত একই সঙ্গে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে, জাতীয় সড়ক ও এক্সপ্রেসওয়ে থেকে পথচারী গবাদি পশু ও অন্যান্য প্রাণীদের সরিয়ে গোশালা বা আশ্রমে স্থানান্তরিত করতে হবে।
এই নির্দেশের মাধ্যমে জনসুরক্ষা এবং পশু সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে পথ কুকুরের সমস্যা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছে। সমস্ত রাজ্যের মুখ্য সচিবদের এই নির্দেশ কঠোরভাবে কার্যকর করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।



