হাইকোর্ট

জুভেনাইল জাস্টিস ব্যবস্থা সংস্কারে কেরালা হাইকোর্টের ১৫ দফা নির্দেশিকা

শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ ও কর্মীরা ভারতে কিশোর বিচার (Juvenile Justice) ব্যবস্থায় মৌলিক সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, Juvenile Justice (Care and Protection of Children) Act, 2015 (JJ Act)-এর কার্যকর বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হলো রাজ্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সরাসরি জবাবদিহিতার (Direct Accountability) অভাব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যেহেতু শিশুরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোটার নয়, তাই তাদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য তৈরি জেজে সিস্টেমের দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে জবাবদিহিতার ঘাটতিই একক বৃহত্তম চ্যালেঞ্জ। যেদিন এই ব্যবস্থায় সরাসরি জবাবদিহিতা আনা সম্ভব হবে, সেদিনই কিশোর বিচার ব্যবস্থার কর্মদক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে। জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ড (JJB), শিশু কল্যাণ কমিটি (CWC) এবং চিল্ড্রেন কোর্টগুলোর উচিত নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা চিহ্নিত করা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

মূল সংস্কারমূলক পদক্ষেপ:

বিশেষজ্ঞরা এই ব্যবস্থার উন্নতিতে নিম্নলিখিত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলো গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন:

১. তথ্য প্রকাশ: জেজে প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা সংক্রান্ত সর্বাধিক তথ্য সরকারি ওয়েবসাইট ও জনসমক্ষে সক্রিয়ভাবে প্রকাশ করা। ২. কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন: জেজেবি, সিডব্লিউসি, চিল্ড্রেন কোর্ট এবং প্রবেশন অফিসারদের জন্য নিয়মিত কর্মক্ষমতা মূল্যায়নের প্রক্রিয়া তৈরি ও বাস্তবায়ন করা। ৩. অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা: প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে শিশুদের জন্য সহজলভ্য, ঝুঁকিমুক্ত এবং শিশু-বান্ধব অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি তৈরি করা।

প্রশাসনিক স্তরে পরিবর্তন:

আইনগুলির যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে রাজ্যগুলির উচিত নিয়মিত “গভর্নেন্স অডিট” বা প্রশাসনিক নিরীক্ষা করা। এছাড়া, জেজে আইন বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগগুলির কর্মীদের নিয়োগ কাঠামো পর্যালোচনা করে চুক্তিবদ্ধ পদ (contractual posts) বিলুপ্ত করে প্রশিক্ষিত, দক্ষ ও নিবেদিত কর্মী বাহিনী তৈরি করা উচিত।

সাম্প্রতিক অগ্রগতি:

২০২১ সালের জেজে আইনের সংশোধনী এবং ‘মিশন বাৎসল্য’ (Mission Vatsalya)-এর সংশোধিত নির্দেশিকাগুলিকে অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলো জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে (DM) জেলা স্তরে জেজে আইন বাস্তবায়নের নোডাল ব্যক্তি হিসেবে নির্ধারণ করা। তবে, যেহেতু ডিএমরা অত্যন্ত ব্যস্ত থাকেন, তাই কেবল শিশু সুরক্ষার বিষয়ে ডিএম-এর অধীনে একজন নিবেদিত অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ADM) নিয়োগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে, প্রতিটি থানায় নিযুক্ত শিশু কল্যাণ পুলিশ অফিসারদের (Child Welfare Police Officers) শুধুমাত্র শিশুদের জন্য নির্দিষ্ট দায়িত্বে নিয়োজিত থাকা উচিত, যাতে এই ক্ষেত্রে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button