আরাবল্লি পর্বতমালায় যথেচ্ছ খনির ওপর সুপ্রিম কোর্টের লাগাম: বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ

আরাবল্লি পর্বতশ্রেণির পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং সেখানে খনি কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন একটি বিশেষ বেঞ্চ আরাবল্লি সংক্রান্ত আগের কিছু নির্দেশিকা ও পরামর্শ স্থগিত করে দিয়ে একটি নতুন ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
আদালত লক্ষ্য করেছে যে, আরাবল্লি অঞ্চল সংরক্ষণ এবং খনি ব্যবস্থাপনা নিয়ে আগে যে বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্ট জমা পড়েছিল, তা নিয়ে নানা অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। এমনকি আদালতের আগের পর্যবেক্ষণগুলোকেও অনেকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করছেন। তাই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং খনি কার্যক্রমের সীমা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা জরুরি বলে মনে করছেন বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জে. কে. মহেশ্বরী এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহ-র বেঞ্চ।
সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কেন নয়?
সুপ্রিম কোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো—পুরো আরাবল্লি অঞ্চল জুড়ে খনি কার্যক্রমের ওপর ঢালাও নিষেধাজ্ঞা সবসময় সুফল দেয় না। আদালতের মতে, সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করলে অনেক সময় এলাকায় ‘অবৈধ খনন’ (Illegal Mining) বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা পরিবেশের জন্য আরও বেশি ক্ষতিকর হতে পারে। তাই প্রয়োজন একটি বৈজ্ঞানিক ও ভারসাম্যপূর্ণ নীতি, যেখানে পরিবেশ রক্ষা পাবে আবার নিয়ন্ত্রিত খনি কার্যক্রমও চলতে পারবে।
আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ:
-
স্থগিতাদেশ: আগের বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ এবং সেই ভিত্তিতে দেওয়া আদালতের পূর্ববর্তী কোনো পর্যবেক্ষণ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যকর করা যাবে না।
-
বিশেষজ্ঞ কমিটি: আদালত একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করবে যারা আরাবল্লির বর্তমান অবস্থা এবং পরিবেশগত প্রভাব খতিয়ে দেখে একটি বিজ্ঞানসম্মত রিপোর্ট জমা দেবে।
-
আইনি সহায়তা: এই জটিল বিষয়ে স্বচ্ছতা আনতে আদালত কেন্দ্রীয় সরকার, সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারসমূহ এবং সিনিয়র আইনজীবীদের (অ্যামিকাস কিউরি) সহায়তা চেয়েছে। সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা এবং অ্যাটর্নি জেনারেল আর. ভেঙ্কটরমণি এই মামলায় আদালতকে সহায়তা করবেন।
পরবর্তী শুনানি:
আরাবল্লি রক্ষা নিয়ে অস্পষ্টতা দূর করতে এবং গভীরতর মূল্যায়নের জন্য আদালত মামলাটি আগামী ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে পুনরায় শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করেছে। এর ফলে আরাবল্লির ভবিষ্যৎ এখন সম্পূর্ণভাবে একটি নতুন বৈজ্ঞানিক ও আইনি পর্যালোচনার ওপর নির্ভর করছে।



