সুপ্রিমকোর্ট

শুধু ‘নারী’ হওয়াই জামিনের একমাত্র ভিত্তি হতে পারে না: কর্ণাটক হাইকোর্টের নির্দেশ বাতিল করল সুপ্রিম কোর্ট

ভারতের বিচার ব্যবস্থায় জামিন বা বেইল দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে যে, কোনো গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত শুধুমাত্র ‘নারী’ বা তিনি ‘দীর্ঘদিন ধরে জেলে আছেন’—এই দুটি বিষয়ই জামিন পাওয়ার একমাত্র বা প্রধান ভিত্তি হতে পারে না। বিচারপতি বি.ভি. নাগরথনা এবং বিচারপতি আর. মহাদেবনের ডিভিশন বেঞ্চ কর্ণাটক হাইকোর্টের একটি বিতর্কিত জামিন আদেশ বাতিল করে এই রায় প্রদান করেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

মামলাটি ২০২৪ সালের ৩ জানুয়ারি কর্ণাটকের চিকমাগালুর জেলার লাক্কাভাল্লি থানার একটি খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ অনুযায়ী, এক নারী দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এক ব্যক্তিকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (খুন) ও অন্যান্য গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের হওয়ার পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২৩ নভেম্বর কর্ণাটক হাইকোর্ট ওই নারীকে জামিন দেয়। হাইকোর্টের যুক্তি ছিল, অভিযুক্ত একজন নারী এবং তিনি বেশ কিছুদিন ধরে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। এই দুই কারণ দেখিয়েই তাঁকে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

সুপ্রিম কোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণ

হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছালে, গত ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫-এ সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্টের আদেশটি বাতিল করে দেয়। বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ হলো:

  • অপরাধের প্রকৃতি: খুনের মতো গুরুতর অভিযোগে জামিন দেওয়ার সময় আদালতের উচিত অভিযোগের ভয়াবহতা, অপরাধের ধরণ এবং অভিযুক্তের প্রত্যক্ষ ভূমিকার (Overt Acts) দিকে নজর দেওয়া।

  • লিঙ্গ নিরপেক্ষ বিচার: আইনের চোখে লিঙ্গ-ভিত্তিক কোনো পূর্বধারণা (Gender-based assumptions) থাকা উচিত নয়। শুধুমাত্র নারী হওয়ার কারণে বিচারপ্রক্রিয়া লঘু হতে পারে না।

  • সমান অধিকার: ‘বেইল হলো নীতি এবং জেল হলো ব্যতিক্রম’—এই প্রবাদটি সত্য হলেও তা কোনো গ্যারান্টি নয়। তদন্তের বর্তমান অবস্থা এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের জটিলতা বিচার না করে ঢালাও জামিন দেওয়া আইনের মূল নীতির পরিপন্থী।

আদালতের সিদ্ধান্ত

সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সমাজ ও বিচারব্যবস্থায় “সমান আইন, সমান বিচার” সুনিশ্চিত করতে হবে। কোনো ব্যক্তির লিঙ্গ বা কারাবাসের সময়কাল বিচার্য বিষয়ের চেয়ে বড় হতে পারে না। আদালত মনে করে, কর্ণাটক হাইকোর্ট মামলার তথ্যের চেয়ে অভিযুক্তের লিঙ্গের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়ে ভুল করেছে। ফলে ওই নারীর জামিন বাতিল করে তাঁকে পুনরায় হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ কার্যকর হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button