“নিজের বাড়ি থেকে প্রবীণ নাগরিকদের বঞ্চিত করা যাবে না”: পুত্রবধূর আবেদন খারিজ করে রায় কর্ণাটক হাইকোর্টের

সম্প্রতি কর্ণাটক হাইকোর্ট প্রবীণ নাগরিকদের অধিকার সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় রায় দিতে গিয়ে এক পুত্রবধূর উচ্ছেদের আদেশের বিরুদ্ধে করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে প্রবীণ নাগরিকদের তাঁদের নিজেদের বাড়িতে প্রবেশাধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায় না।
মামলার মূল ঘটনা ছিল প্রবীণ নাগরিক রত্নকুমারী এবং তাঁর পুত্রবধূ সৌম্যাকে নিয়ে। অভিযোগ ওঠে যে প্রবীণ শাশুড়ি রত্নকুমারী নিজের বাড়ি থাকা সত্ত্বেও তাঁকে মূল বাড়ি থেকে সরিয়ে একটি আউটহাউসে (বাইরের ঘর) থাকতে বাধ্য করা হচ্ছিল। অন্যদিকে, পুত্রবধূ সৌম্যা তাঁর স্বামীর মৃত্যুর পর অন্ধ্রপ্রদেশে চলে যান, তবুও তিনি মূল বাড়ির দখল নিজেদের হাতে রেখেছিলেন এবং শাশুড়ির প্রবেশে বাধা দিচ্ছিলেন।
এই পরিস্থিতিতে প্রবীণ নাগরিক রত্নকুমারী ‘প্রবীণ নাগরিক ও পিতামাতার ভরণপোষণ এবং কল্যাণ আইন, ২০০৭’ (Maintenance and Welfare of Parents and Senior Citizens Act, 2007) এর অধীনে অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনারের কাছে অভিযোগ জানান। অভিযোগের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল পুত্রবধূ সৌম্যাকে উচ্ছেদ করার নির্দেশ দেয়, যাতে প্রবীণ নাগরিক তাঁর বাড়িতে সম্মানজনকভাবে থাকতে পারেন।
এরপর সৌম্যা কর্ণাটক হাইকোর্টে ট্রাইব্যুনালের এই আদেশের বিরুদ্ধে আবেদন করেন। তাঁর মূল আইনি যুক্তি ছিল— আইনের ২৩ ধারা অনুযায়ী কেবলমাত্র শর্তসাপেক্ষ সম্পত্তি হস্তান্তরের (যেমন দানপত্র) ক্ষেত্রেই উচ্ছেদের নির্দেশ দেওয়া যায়। যেহেতু তাঁকে কোনো শর্তসাপেক্ষ হস্তান্তর করা হয়নি, তাই ট্রাইব্যুনাল উচ্ছেদের আদেশ দেওয়ার এক্তিয়ার রাখে না।
বিচারপতি এম নাগাপ্রসন্নের একক বেঞ্চ পুত্রবধূর এই আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালত সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তকে উল্লেখ করে জানায় যে এই আইনের মূল লক্ষ্য হলো প্রবীণ নাগরিকদের কল্যাণ, নিরাপত্তা এবং তাঁদের আবাসে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।
আদালত এই মর্মে রায় দেয় যে, যদি একজন প্রবীণ নাগরিককে তাঁর নিজের বাড়ি থেকে কার্যত বাদ দেওয়া হয়, তবে শুধুমাত্র ২৩ ধারার প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার অজুহাত দেখিয়ে সেই অবিচারকে আড়াল করা যায় না। ট্রাইব্যুনাল যে ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে, তা আইনের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে পুত্রবধূ বর্তমানে বাড়িটিতে বসবাস করছেন না, তবুও প্রবীণ নাগরিককে প্রবেশে বাধা দিচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে প্রবীণ নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য উচ্ছেদের আদেশ সঠিক ছিল।



