খবরাখবর

এজলাসের মধ্যে বিচারপতিকে হুমকি! ১৯৮৮ সালের হত্যা মামলায় প্রাক্তন এসপি-র বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ এলাহাবাদ হাইকোর্টের

এলাহাবাদ হাইকোর্ট (Allahabad High Court) সম্প্রতি একটি অত্যন্ত গুরুতর ঘটনায় হস্তক্ষেপ করেছে, যেখানে এক প্রাক্তন পুলিশ সুপার (SP) প্রকাশ্যে এজলাসের মধ্যে বিচারপতিকে হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আদালত এই ঘটনাকে বিচার ব্যবস্থার ওপর সরাসরি আক্রমণ হিসেবে দেখছে এবং এই প্রাক্তন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে।

হাইকোর্টের বিচারপতি অরবিন্দ কুমার মিশ্র-১ এবং বিচারপতি ঊমেশ চন্দ্র শর্মার ডিভিশন বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে (Suo Motu) এই বিষয়টি আমলে নিয়েছে। আদালত উত্তরপ্রদেশের ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (DGP)-কে নির্দেশ দিয়েছে যে, অভিযুক্ত প্রাক্তন এসপি-র বিরুদ্ধে যথাযথ ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হোক এবং পুরো ঘটনার বিস্তারিত হলফনামা (Affidavit) আদালতে জমা দেওয়া হোক।

ঘটনার পটভূমি:

মামলাটি ১৯৮৮ সালের একটি হত্যা মামলা (Murder Case) সংক্রান্ত, যেখানে অভিযুক্ত প্রাক্তন এসপি বর্তমানে জামিনে মুক্ত আছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, হাইকোর্টে যখন এই মামলাটির শুনানি চলছিল, তখন ওই প্রাক্তন পুলিশ কর্মকর্তা আদালতের কার্যক্রমে বাধা দেন এবং বিচারপতির উদ্দেশ্যে হুমকিমূলক ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। এই ঘটনাটি এজলাসের মধ্যে উপস্থিত সকলে প্রত্যক্ষ করেন।

আদালত এই আচরণের তীব্র নিন্দা করেছে এবং বলেছে যে, অভিযুক্ত একজন প্রাক্তন পুলিশ কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও, তাঁর এই ধরনের ব্যবহার বিচার ব্যবস্থার প্রতি চরম অসম্মান প্রদর্শন করে। এই ধরনের আচরণ আদালতের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে এবং বিচারকের পক্ষে স্বাধীনভাবে কাজ করা অসম্ভব করে তোলে।

আদালতের নির্দেশিকা:

১. ডিজিপি-র হলফনামা: হাইকোর্ট ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে যে, অবিলম্বে এই ঘটনার সম্পূর্ণ বিবরণ দিয়ে একটি হলফনামা দাখিল করতে হবে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা জানাতে হবে। ২. ফৌজদারি মামলা: আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, প্রাক্তন এসপি-র বিরুদ্ধে আদালতের কার্যক্রমে বাধা দেওয়া, বিচারপতিকে হুমকি দেওয়া এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ধারায় ফৌজদারি মামলা রুজু করা হোক। ৩. আদালতের কর্মচারীদের ভূমিকা: আদালত এজলাসের মধ্যে উপস্থিত কর্মচারীদের কাছেও এই ঘটনা সংক্রান্ত বিবরণ চেয়েছে।

এলাহাবাদ হাইকোর্টের এই কঠোর পদক্ষেপটি বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা এবং মর্যাদা রক্ষায় একটি শক্তিশালী বার্তা হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে। আদালতের পরবর্তী শুনানি দ্রুতই হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যেখানে ডিজিপি-র পক্ষ থেকে রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।

স্বতঃপ্রণোদিত বনাম উত্তরপ্রদেশ রাজ্য (Suo Motu v. State of Uttar Pradesh) (এই ধরনের স্বতঃপ্রণোদিত মামলায় সাধারণত আদালত নিজেই বাদী হয়)

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button