মুসলিম পুনর্বিবাহে ‘হালালা’র বৈধতা প্রমাণ আবশ্যক: রক্ষণাবেক্ষণের আদেশ বাতিল করল কেরল হাইকোর্ট
প্রথম স্বামীকে পুনর্বিবাহের আগে মধ্যবর্তী 'হালালা' বিবাহের বৈধতা প্রমাণ করতে হবে: কেরল হাইকোর্ট; রক্ষণাবেক্ষণের আদেশ খারিজ
কেরল হাইকোর্ট (Kerala High Court) মুসলিম ব্যক্তিগত আইনের (Muslim Personal Law) অধীনে পুনর্বিবাহ এবং রক্ষণাবেক্ষণ (Maintenance) সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে। আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, একজন মুসলিম নারী তাঁর প্রথম স্বামীকে পুনরায় বিয়ে করতে চাইলে, তাঁকে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে যে তাঁদের মাঝের বা মধ্যবর্তী বিবাহটি (Intervening Marriage) বৈধভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়ায় বিলুপ্ত (Dissolved) হয়েছে। এই শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় হাইকোর্ট পরিবার আদালতের (Family Court) দেওয়া রক্ষণাবেক্ষণের আদেশটি বাতিল করেছে।
মামলার প্রেক্ষাপট ও রায়
এই মামলায় আবেদনকারী ছিলেন ভি.পি. আবদুরাহিমান (V.P. Abdurahiman) এবং প্রতিপক্ষ ছিলেন সি. সাফিয়া (C. Safiya)।
-
তারা প্রথমে ১৯৮৩ সালে বিবাহ করেন এবং পরে তাদের বিবাহ ভেঙে যায়।
-
সাফিয়া দাবি করেন, তিনি ১৯৯১ সালে অন্য এক ব্যক্তিকে দ্বিতীয় বিবাহ করেছিলেন। সেই বিবাহ পরে বিলুপ্ত হলে ২০১২ সালে তিনি আবদুরাহিমানকে আবার বিয়ে করেন।
-
এরপর সাফিয়া মাসিক ৬,০০০ টাকা রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানালে ফ্যামিলি কোর্ট তা অনুমোদন করে।
-
আবদুরাহিমানের আইনজীবী হাইকোর্টে দাবি করেন, সাফিয়া তাঁর মধ্যবর্তী বিবাহের আইনগত অবসান এবং ২০১২ সালের পুনর্বিবাহের বৈধতা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
হাইকোর্টের বিচারপতি ডঃ জাস্টিস কাউসার এদাপ্পাগাথ (Dr. Justice Kauser Edappagath) এই বিষয়টি বিবেচনা করেন।
হালালা ও পুনর্বিবাহের শর্ত
বিচারপতি এদাপ্পাগাথ মুসলিম ব্যক্তিগত আইনের বিধানের উপর জোর দেন। তিনি বলেন, প্রথম স্বামীর সঙ্গে তালাকের পর ‘হালালা’ বা ‘নিকাহ হালালা’-র শর্তগুলি পূরণ হলেই কেবল সেই পুনর্বিবাহ বৈধ হতে পারে। ১. তালাকপ্রাপ্ত নারীকে প্রথমে ‘ইদ্দাত’ (Iddat) সময়কাল পার করতে হবে। ২. এরপর তাঁকে স্বতন্ত্র পুরুষের সঙ্গে বৈধভাবে বিবাহ করতে হবে। ৩. সেই দ্বিতীয় বিবাহটি আইনিভাবে সম্পন্ন ও বিলুপ্ত হতে হবে। আদালত স্পষ্ট করে যে, এর বাইরে অন্য কোনো ধরনের যৌন সম্পর্ক বা দীর্ঘকাল একত্রে বসবাস করা আগের বিবাহের অবসান এবং নতুন বিবাহের বৈধতা প্রমাণ করতে পারে না।
CrPC ধারা ১২৫-এর অধীনে প্রমাণের মানদণ্ড
আদালত আরও মতামত দেয় যে, শুধুমাত্র দীর্ঘ দিনের একত্রে বসবাস বা সম্পর্ক CrPC-এর ধারা ১২৫ (Section 125 CrPC)-এর অধীনে রক্ষণাবেক্ষণ দাবি করার জন্য পর্যাপ্ত প্রমাণ নয়, যদি আইনিভাবে প্রথম বিবাহ ভেঙে যাওয়ার পর হালালার প্রক্রিয়া সঠিকভাবে প্রমাণিত না হয়। সাফিয়া তাঁর মূল মামলা দাখিলের সময় মধ্যবর্তী বিবাহের অন্তর্ভুক্তি ও বিলুপ্তি সম্পর্কে যথাযথ তথ্য দিতে পারেননি এবং আদালত সেই প্রমাণকে অপর্যাপ্ত বলে মনে করেছে।
হাইকোর্ট ফ্যামিলি কোর্টের রক্ষণাবেক্ষণের আদেশটি বাতিল করেছে। তবে, উভয় পক্ষকে নতুন করে প্রমাণ উপস্থাপনের সুযোগ দিতে মামলাটি ফ্যামিলি কোর্ট, মালাপ্পুরম-এ ফেরত পাঠানো হয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে নতুন তথ্যের ভিত্তিতে তিন মাসের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তি করতে হবে।
এই রায়টি মুসলিম ব্যক্তিগত আইনে পুনর্বিবাহের বৈধতার ক্ষেত্রে ‘হালালা’-র কঠোর প্রয়োজনীয়তাকে এবং রক্ষণাবেক্ষণ দাবিতে প্রমাণের মানদণ্ডকে জোরদার করেছে।



