খবরাখবর

সাক্ষ্যগ্রহণের আগে অভিযুক্তের ‘প্রাপ্তিস্বীকার’ এখন বাধ্যতামূলক: কেরল হাইকোর্ট

কেরল হাইকোর্ট সম্প্রতি ফৌজদারি মামলার বিচার প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ এবং সময়োপযোগী রাখতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করেছে। এই নির্দেশটি মূলত ফৌজদারি মামলায় সাক্ষীর পরীক্ষা (evidence recording) শুরু হওয়ার আগে অভিযুক্ত পক্ষের কাছ থেকে একটি লিখিত স্বীকৃতি বা প্রাপ্তিস্বীকার (endorsement) নেওয়া বাধ্যতামূলক করেছে।

পটভূমি: কেন এই নির্দেশ?

আদালত লক্ষ্য করেছে যে, ফৌজদারি মামলায় অনেক সময় অভিযুক্ত বা তাঁর আইনজীবীরা সাক্ষীর পরীক্ষার দিন ঠিক হওয়ার একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে অভিযোগ তোলেন যে, তদন্তে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সাক্ষীর তালিকা, প্রমাণাদি (witness list, documents, material objects) তাঁরা পাননি। এই অভিযোগটি করা হয় মূলত Criminal Rules of Practice, 1982 (CRP)–র Rule 19(4) অনুসরণ করে, যেখানে তদন্তের সব তথ্য অভিযুক্তকে দেখানোর কথা বলা হয়েছে।

এই ধরনের অভিযোগের ফলে প্রায়শই বিচার প্রক্রিয়া (trial) বিলম্বিত হয়। এতে একদিকে যেমন বিচার পেতে দেরি হয়, তেমনই অন্যদিকে সাক্ষী এবং আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। বিচার প্রক্রিয়ার এই অযথা বিলম্ব বা ‘Trial Delay’ বন্ধ করতেই হাইকোর্ট এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে।

হাইকোর্টের প্রধান নির্দেশিকা

কেরল হাইকোর্ট জেলার সকল ফৌজদারি আদালতকে (Criminal Courts) নিম্নলিখিত তিনটি মূল বিষয় বাধ্যতামূলকভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে:

১. সম্পূর্ণ সম্মতি নিশ্চিতকরণ: আদালত নিশ্চিত করবে যে, সাক্ষীর পরীক্ষার দিন ঠিক করার আগে Rule 19(4) CRP-এর শর্তাবলী সম্পূর্ণরূপে মানা হয়েছে। অর্থাৎ, তদন্তের সমস্ত তথ্য অভিযুক্তকে দেখানো বা প্রদান করা হয়েছে।

২. ‘Endorsement’ (লিখিত স্বীকৃতি) বাধ্যতামূলক: শুধুমাত্র তথ্য দেওয়া হয়েছে—এই মৌখিক নিশ্চয়তা যথেষ্ট নয়। অভিযুক্ত বা তাঁর আইনজীবীর কাছ থেকে একটি লিখিত স্বীকৃতি (endorsement) আদালতে দাখিল করতে হবে। এই স্বীকৃতিতে উল্লেখ থাকবে যে, তাঁরা সাক্ষীর তালিকা, প্রমাণ নথি এবং অন্যান্য আলামত (যা মামলার সাথে সম্পর্কিত বা না-ও হতে পারে) পেয়েছেন। এই স্বীকৃতি আদালত তাঁর মামলার কার্যাজনিত নথি (proceedings-sheet) তে লিপিবদ্ধ করবেন।

৩. Endorsement ছাড়া সাক্ষ্যগ্রহণ নয়: যদি অভিযুক্তের পক্ষ থেকে এই লিখিত স্বীকৃতি (endorsement) না পাওয়া যায়, তবে আদালত কোনোভাবেই সাক্ষীর পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করতে পারবে না।

 অবমাননার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ

হাইকোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, যদি কোনো আদালত বা সংশ্লিষ্ট বিচার বিভাগীয় অফিসার এই নির্দেশ মানতে ব্যর্থ হন—অর্থাৎ, লিখিত স্বীকৃতি (endorsement) ছাড়াই সাক্ষীর পরীক্ষার দিন ঠিক করেন—তাহলে সেই দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে Contempt of Court (আদালতের অবমাননা) আইন অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 এই নির্দেশের লক্ষ্য

এই নির্দেশ জারির প্রধান উদ্দেশ্য হলো বিচার প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ এবং সময়োপযোগী করে তোলা।

  • স্বচ্ছতা: Endorsement বাধ্যতামূলক করার ফলে প্রসিকিউশন (তদন্তকারী পক্ষ) এবং ডিফেন্স (অভিযুক্ত পক্ষ) উভয়ই নিশ্চিত হবে যে, তাদের কাছে সব তথ্য পৌঁছেছে।

  • বিলম্ব রোধ: এতে শেষ মুহূর্তে “আমরা তথ্য পাইনি” বলে মামলা বিলম্বিত করার সুযোগ আর থাকবে না, ফলে বিচার দ্রুত সম্পন্ন হবে।

এই রায়টি একটি নির্দিষ্ট মামলার ভিত্তিতে দেওয়া হলেও, হাইকোর্ট পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, এই নিয়ম এখন থেকে কেরলের সমস্ত ফৌজদারি মামলায় (all criminal trials) বিনা ব্যর্থতায় কার্যকর হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button