আধার কার্ডের অপব্যবহার তদন্তের জায়গা আদালত নয়, কেন্দ্রকে পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ সুপ্রিম কোর্টের
পশ্চিমবঙ্গে চলমান ভোটার তালিকা সংশোধন বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়ায় আধার কার্ডের কথিত অপব্যবহার নিয়ে বড় মন্তব্য করল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, আধার কার্ড জাল হওয়া বা এর অপব্যবহার সংক্রান্ত অভিযোগগুলোর বিস্তারিত তদন্ত করা আদালতের কাজ নয়। এই ধরনের জাতীয় নিরাপত্তার বিষযয়ে আবেদনকারীদের কেন্দ্রীয় সরকারের দ্বারস্থ হওয়া উচিত।
অভিযোগ ও প্রেক্ষাপট: মামলার শুনানি চলাকালীন আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায় অভিযোগ তোলেন যে, পশ্চিমবঙ্গে বৃহৎ পরিসরে জাল আধার কার্ড ইস্যু করা হচ্ছে। তাঁর দাবি ছিল, অনুপ্রবেশকারী বা রোহিঙ্গারা অবৈধভাবে এই আধার কার্ড সংগ্রহ করছে, যা ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও দেশের নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করছে। তিনি আদালতের কাছে এই বিষয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপের আবেদন জানান।
আদালতের অবস্থান: প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল পঞ্চোলীর বেঞ্চ এই দাবির প্রেক্ষিতে জানায় যে, বিচারব্যবস্থা কোনো তদন্তকারী সংস্থা নয়। প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, “এই বিষয়গুলো অত্যন্ত গভীর তদন্তের দাবি রাখে এবং সুপ্রিম কোর্ট এই ধরনের অনুসন্ধানের উপযুক্ত ফোরাম বা মাধ্যম নয়।”
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মামলাকারীকে পরামর্শ দিয়ে বলেন যে, যদি আধার কার্ডের ব্যাপক অপব্যবহার হয়ে থাকে, তবে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ‘জনপ্রতিনিধিত্ব আইন’ (Representation of the People Act) সংশোধনের আবেদন করতে পারেন। তিনি আরও যোগ করেন, আধার কার্ডের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য আইনি ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব মূলত কেন্দ্র সরকারের।
আধার ও নাগরিকত্ব নিয়ে পর্যবেক্ষণ: আদালত ইতিপূর্বে ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে ‘জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০’-এর ২৩(৪) ধারা অনুযায়ী আধার কার্ডকে পরিচয় প্রমাণের একটি গ্রহণযোগ্য নথি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে মঙ্গলবার আদালত পুনরায় মনে করিয়ে দিয়েছে যে— আধার কার্ড কেবল পরিচয়ের প্রমাণ, এটি কোনোভাবেই নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণ অধিকার রয়েছে যে কোনো সন্দেহজনক আধারের প্রামাণিকতা যাচাই করার।
উপসংহার: সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় আধার কার্ড ব্যবহার করা গেলেও এর জালিয়াতি রোধে কেন্দ্রীয় সরকারকেই মূল দায়িত্ব নিতে হবে। আদালত নিজেকে এই প্রশাসনিক ও তদন্তমূলক বিতর্ক থেকে দূরে রেখে দ্রুত ভোটার তালিকা সম্পন্ন করার দিকেই নজর দিচ্ছে।



