সুপ্রিমকোর্ট

দিল্লি দাঙ্গা মামলা: কেস ডায়েরি পুনর্গঠনের আবেদন খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট

২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত এবং ছাত্র আন্দোলনের কর্মী দেবাঙ্গনা কলিতার একটি বিশেষ আবেদন খারিজ করে দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। তদন্তের সময় পুলিশি ‘কেস ডায়েরি’ (Case Diary) পুনর্গঠন বা নতুন করে সাজানোর যে দাবি তিনি জানিয়েছিলেন, আদালত তাতে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করেছে।

মামলার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ

দেবাঙ্গনা কলিতার অভিযোগ ছিল, দিল্লি পুলিশ তদন্তের সময় প্রস্তুত করা কেস ডায়েরিতে কারচুপি করেছে। তার দাবি অনুযায়ী, কিছু সাক্ষীর জবানবন্দি অনেক পরে নেওয়া হলেও নথিতে আগের তারিখ বসিয়ে জালিয়াতি করা হয়েছে। তদন্তের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তিনি আদালতের কাছে অনুরোধ করেছিলেন যাতে কেস ডায়েরিগুলো পুনরায় খতিয়ে দেখে সঠিকভাবে সাজানো হয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং পি বি ভারালের বেঞ্চ এই আবেদনটি শোনার পর সাফ জানিয়ে দেয় যে, তারা দিল্লি হাইকোর্টের আগের সিদ্ধান্তেই অটল থাকছে। এর আগে ট্রায়াল কোর্ট এবং দিল্লি হাইকোর্ট—উভয় আদালতই দেবাঙ্গনার এই দাবি নাকচ করে দিয়েছিল।

আদালতের মতে, ফৌজদারি কার্যবিধির (CrPC) ১৬১ ধারায় রেকর্ড করা সাক্ষীর বয়ান সরাসরি প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয় না। তদন্তের নথিতে কোনো কারচুপি হয়ে থাকলে, বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালীন ট্রায়াল কোর্টে উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ ও যুক্তির মাধ্যমে অভিযুক্ত পক্ষ সেই বিষয়টি উত্থাপন করতে পারে। অর্থাৎ, এই পর্যায়ে আলাদা করে কেস ডায়েরি পুনর্গঠনের প্রয়োজন নেই।

আন্দোলনের সূত্রপাত

এই মামলার মূল যোগসূত্র রয়েছে ২০২০ সালের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে। সেই সময় দিল্লির জাফরাবাদ মেট্রো স্টেশনের কাছে বিক্ষোভ ও রাস্তা অবরোধের ঘটনা ঘটেছিল, যা পরবর্তীতে উত্তর-পূর্ব দিল্লির ভয়াবহ দাঙ্গার তদন্তের অংশে পরিণত হয়। এই ঘটনায় দেবাঙ্গনা কলিতা-সহ একাধিক ছাত্র অধিকার কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের ফলে আপাতত তদন্তকারী সংস্থার নথিপত্র সংক্রান্ত বিতর্কের অবসান ঘটল না, বরং মূল বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার পথ খোলা রইল।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button