খবরাখবর

জাত তুলে বিয়েতে অস্বীকার: কর্ণাটক হাইকোর্টে রেহাই পেলেন না অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল

 Bagvantha Ray Basavantha Ray Biradar v. State of Karnataka

কর্ণাটক হাইকোর্ট সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তফসিলি জাতি ও উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইন, ১৯৮৯ (SC/ST Act) এর অধীনে অভিযুক্ত এক পুলিশ কনস্টেবলকে আগাম জামিন দিতে অস্বীকার করেছে। অভিযোগকারী মহিলাও একজন পুলিশ কনস্টেবল এবং তিনি তফসিলি জাতিভুক্ত। অভিযুক্ত তার জাতের দোহাই দিয়ে মহিলাকে স্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকার করেছিলেন, যা SC/ST আইনের আওতায় গুরুতর অপরাধ বলে গণ্য হয়েছে।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ:

অভিযোগকারী মহিলা কনস্টেবল জানান, অভিযুক্ত কনস্টেবলের সঙ্গে তার একটি দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। অভিযুক্ত তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন এবং দু’জনের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপিত হয়। অভিযোগকারীর বক্তব্য অনুসারে, অভিযুক্ত তার বাড়িতে লর্ড সাই বাবার ছবির সামনে প্রতীকীভাবে তাকে ‘বিয়ে’ করেন এবং পরে স্ত্রী হিসেবে মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।

কিন্তু পরে যখন মহিলা অভিযুক্তকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করার কথা বলেন, তখন অভিযুক্ত হঠাৎ করেই বেঁকে বসেন। অভিযোগ উঠেছে যে, অভিযুক্ত কনস্টেবল তখন সরাসরি বলেন, মহিলা তফসিলি জাতিভুক্ত হওয়ায় তিনি তাকে স্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে পারবেন না। এমনকি, মহিলা এর প্রতিবাদ করলে অভিযুক্ত তাকে মারধরও করেন। এরপরই এই প্রতারণা, শারীরিক নিগ্রহ ও জাতপাতের ভিত্তিতে অসম্মান করার অভিযোগে তিনি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন।

আইনি পদক্ষেপ ও কনস্টেবলের আবেদন:

অভিযুক্ত কনস্টেবলের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩ (BNS)-এর ধারা ৩৫২ (শান্তি ভঙ্গ করতে প্ররোচিত করার জন্য অপমান), ধারা ১১৫ (আঘাত) এবং ধারা ৭৪ (নারীর শালীনতা ক্ষুণ্ণ করা), সহ SC/ST আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়।

এই মামলার প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত কনস্টেবল প্রথমে তুমাকুরু সেশনস কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেন। কিন্তু সেশনস কোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেওয়ায়, তিনি কর্ণাটক হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।

হাইকোর্টে অভিযুক্তের আইনজীবীর যুক্তি ছিল যে, তার মক্কেলকে মিথ্যাভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তাদের মধ্যে সহকর্মী হিসেবে কিছু মতবিরোধ ছিল এবং যখন অভিযুক্ত তার বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন, তখন প্রতিশোধ নিতেই মহিলা এই ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছেন। আইনজীবীর দাবি ছিল, অভিযুক্ত যে মহিলাকে বিয়ে করেছেন বা কোনো অপরাধ করেছেন, তার সপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও রায়:

বিচারপতি এস. রচাইয়ার একক বেঞ্চ এই মামলার শুনানি করে। আদালত অভিযোগের বিবরণে গভীর মনোযোগ দেয়। বিচারপতি পর্যবেক্ষণ করেন, যদিও সম্পর্কের ব্যর্থতা বা বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ দেওয়ানি বা সাধারণ অপরাধ হতে পারে, কিন্তু এখানে মূল অপরাধটি হলো—জাতিগত পরিচয়ের কারণে মহিলাকে স্ত্রী হিসেবে প্রত্যাখ্যান করা।

আদালত স্পষ্ট করে জানায়, অভিযোগের সমস্ত দিক থেকে এটাই প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হচ্ছে যে, অভিযুক্ত কনস্টেবল তফসিলি জাতিভুক্ত হওয়ার কারণেই মহিলাকে স্ত্রী হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এটি SC/ST (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনের অধীনে অপরাধের উপাদানগুলিকে আকর্ষণ করে।

SC/ST আইনের ১৮এ ধারায় স্পষ্ট বলা আছে যে, যদি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এই আইনের আওতায় অপরাধ সংঘটনের প্রাথমিক প্রমাণ (prima facie case) থাকে, তবে আগাম জামিন মঞ্জুর করা যাবে না।

হাইকোর্ট এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, যেহেতু অভিযোগগুলি গুরুতর এবং SC/ST আইনের অধীনে অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত, তাই এই ধাপে আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর করা হলে তা আইনের উদ্দেশ্যের পরিপন্থী হবে।

এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে, কর্ণাটক হাইকোর্ট অভিযুক্ত কনস্টেবলের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। এর ফলে অভিযুক্তকে বিচার প্রক্রিয়ার সম্মুখীন হতে হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button