
এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা, রাকেশ কিশোর নামের এক প্রবীণ আইনজীবী দাবি করেছেন যে, সম্প্রতি (ডিসেম্বর ২০২৫) দিল্লির কারকারডুমা কোর্ট চত্বরে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন মানুষ তাঁর উপর স্লিপার বা জুতো ছুড়ে আক্রমণ করেছে।
রাকেশ কিশোরই সেই ৭১ বছর বয়সী প্রাক্তন আইনজীবী, যিনি অক্টোবর মাসে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বি.আর. গাভাইয়ের দিকে জুতো ছুড়ে মারার চেষ্টা করে শিরোনামে এসেছিলেন।
হামলার অভিযোগ ও ভিডিও
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ভিড়ের মাঝে তাঁকে ঘিরে ধরে অনেকে তাঁর দিকে আক্রমণাত্মকভাবে হাত নাড়ছে এবং স্লিপার ছুড়ছে। যদিও কিছু ব্যক্তিকে তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে দেখা গেছে।
রাকেশ কিশোরের দাবি, যখন তিনি আক্রমণকারীদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, “কেন মারছেন?”—তখন তাদের উত্তর ছিল, “তুমি যেভাবে (বিচারপতি গাভাইয়ের ক্ষেত্রে) জুতো ছুড়েছিলে, তার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মারছি।”
এই হামলা প্রসঙ্গে পুলিশ এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।
পুরনো ‘জুতো কাণ্ড’ ও তার প্রতিক্রিয়া
এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে অক্টোবর ২০২৫-এর সেই বিতর্কিত ঘটনা:
-
ঘটনা: রাকেশ কিশোর সুপ্রিম কোর্টে শুনানি চলাকালীন আচমকাই জুতো খুলে বিচারপতি বি.আর. গাভাইয়ের দিকে ছুড়ে মারার চেষ্টা করেন। নিরাপত্তা কর্মীরা যদিও তাঁকে বাধা দেন।
-
স্লোগান: জুতো ছোড়ার সময় তাঁকে চিৎকার করতে শোনা যায়— “সনাতন ধর্মের অপমান সহ্য করব না” (Sanatan ka apman nahi sahenge)।
-
আইনি পদক্ষেপ: এই ঘটনার পরপরই বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (BCI) তাঁর আইনজীবীর লাইসেন্স “তৎক্ষণাৎ” স্থগিত করে দেয়।
-
বহিষ্কার: এছাড়া, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন (SCBA) তাঁকে সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করে এবং সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
সেই দিনের ঘটনাকে অনেকেই “সংবিধান ও বিচারব্যবস্থার চরম অবমাননা” এবং আইনজীবী সমাজের জন্য এক দৃষ্টান্তহীন আচরণ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন।
হামলার গুরুত্ব
রাকেশ কিশোরের মতে, এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল সরাসরি ‘প্রতিশোধ নেওয়া’, যা আইন, আদালত এবং সামাজিক মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধার অভাবের ইঙ্গিত দেয়।
পুলিশ বা কোর্ট কর্তৃপক্ষ এই নতুন হামলার বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক রিপোর্ট বা মন্তব্য না দিলেও, বিষয়টি গুরুতর। এই ধরনের ঘটনা আদালতের অভ্যন্তরে এবং বাইরে আইনজীবী-বিচারপতি সম্পর্ক, বিচারালয়ের নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক সম্মানের বিষয়ে গভীর প্রশ্ন তুলে দেয়। যে আইনজীবী একবার আদালতে আইন মানতে অস্বীকার করেছেন, তিনিই এখন আদালতের বাইরে আইন উপেক্ষা করে হিংসার শিকার—তাঁর এই দাবি আদালতের পরিবেশ ও নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে নতুন করে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।



