
সম্প্রতি পাটনায় একটি বাইক স্টান্টের ঘটনায় চরম পুলিশি বাড়াবাড়ি এবং দুর্ব্যবহারের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটি কর্তৃপক্ষের নজরে আসার সাথে সাথেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মীকে সাসপেন্ড করার পাশাপাশি বাইক আরোহী যুবককেও বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানোর জন্য মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ১৪ নভেম্বর, কাচ্চি দরগা-বিদুপুর সিক্স লেন সড়কে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, দুই পুলিশ কর্মী একটি বাইক থামানোর চেষ্টা করছেন। ১৯ বছর বয়সী ওই বাইক চালক, অভিষেক রাজপুত, তাৎক্ষণিকভাবে বাইকের গতি কমালেও দ্রুত থামাননি। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সাব-ইন্সপেক্টর দেবকান্ত বান্টি এবং পিটিসি বিশ্বনাথ কুমার নামে দুই পুলিশ কর্মী বাইক চালককে গালিগালাজ শুরু করেন এবং এক জন কোনও রকম দ্বিধা ছাড়াই তাকে চড় মারেন। এই সম্পূর্ণ দৃশ্যটি সেখানে উপস্থিত অন্য কেউ রেকর্ড করে এবং তা দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর পাটনা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নড়েচড়ে বসেন। জনসমক্ষে পুলিশের এই ধরনের দুর্ব্যবহার এবং শারীরিক আক্রমণের ঘটনাকে তারা গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গের কাজ বলে মনে করেন। ফলস্বরূপ, ওই দুই পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং তাদের কর্তব্য থেকে সাসপেন্ড করা হয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুলিশের সম্মান ও দায়িত্ববোধ বজায় রাখতে এই ধরনের অসদাচরণ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে তাদের বিরুদ্ধে আরও তদন্ত চলছে।
অন্যদিকে, পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি, বাইক আরোহী অভিষেক রাজপুতকেও তার কৃতকর্মের জন্য শাস্তি পেতে হয়েছে। বিপজ্জনকভাবে বাইক স্টান্ট করার এবং অন্যদের জীবন বিপন্ন করার অভিযোগে তাকে ৭,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রশাসন স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে যে রাস্তায় বিপজ্জনক স্টান্ট বা বেপরোয়া ড্রাইভিং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
পরে বাইক চালক অভিষেক রাজপুত তার ভুল স্বীকার করেন এবং জনসাধারণের কাছে ক্ষমা চান। তিনি বলেন, “স্টান্ট করার সময় পুলিশ আমাকে ধরেছে। আমি স্বীকার করছি যে আমার কাজটি ভুল ছিল এবং এর ফলে অন্যদেরও ক্ষতি হতে পারত। এখন থেকে আমি আর কখনও স্টান্ট করব না। আমার চালানও কাটা হয়েছে। আমি আমার ভুলের জন্য দুঃখিত।” এই ঘটনাটি পুলিশ এবং জনগণের মধ্যে আইনি সীমা এবং আচরণের প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। এটি স্পষ্ট করে দেয় যে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে যেমন পুলিশকে সংযত ও দায়িত্বশীল হতে হবে, তেমনি নাগরিকদেরও ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।



