গ্যাংস্টার আতিকের শ্যালকের জামিন নাকচ, উমেশ পাল হত্যা মামলায় বড় সিদ্ধান্ত এলাহাবাদ হাইকোর্টের

প্রয়াত গ্যাংস্টার-রাজনীতিবিদ আতিক আহমেদের শ্যালক ডাঃ আখলাক আহমদ ওরফে এখলাক আহমদকে জামিন দিতে অস্বীকার করল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। চাঞ্চল্যকর উমেশ পাল ও তাঁর দুই নিরাপত্তা রক্ষীর খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁর জামিনের আবেদন নাকচ করে দেওয়া হয়েছে।
বিচারপতি শেখর কুমার যাদব গত ৭ নভেম্বর এই নির্দেশ দেন। আদালত পর্যবেক্ষণ করে, রেকর্ড থাকা তথ্যে দেখা যাচ্ছে, উমেশ পালকে দিনের আলোয় হত্যার অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে আখলাকের প্রাথমিক জড়িত থাকার প্রমাণ রয়েছে।
আদালত জানায়, বোমা ও গুলি ব্যবহার করে প্রকাশ্যে এই নৃশংস ত্রিমুখী হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, যা মানুষের মধ্যে ‘আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে’ এবং ‘জনবিশ্বাসকে নাড়িয়ে দিয়েছে’।
আদালতের বক্তব্য, “যেভাবে জঘন্য অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে, তার মাত্রা, এর ফলে সৃষ্ট জন-আতঙ্ক, এবং একাধিক অভিযুক্তের জড়িত থাকার বিষয়টি বিবেচনা করে অভিযুক্তকে জামিন দেওয়ার কোনো যথেষ্ট কারণ এই আদালত খুঁজে পাচ্ছে না। এত বড় এবং সমাজের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন একটি মামলায় জামিন দিলে তা ভুল বার্তা দেবে এবং ন্যায়বিচারকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে। প্রধান ষড়যন্ত্রকারীর আত্মীয় হওয়ায় জামিনে মুক্তি পেলে সাক্ষীদের প্রভাবিত করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।”
২০২৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি আতিক আহমেদের ছেলে এবং তার সহযোগীরা উমেশ পালকে তাঁর বাড়ির বাইরে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। উমেশ পাল ছিলেন রাজু পাল হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান সাক্ষী।
প্রসিকিউশন আদালতের সামনে অভিযোগ করে যে, মীরাটে কর্মরত সরকারি চিকিৎসক আখলাক আহমদ হত্যাকারীদের আর্থিক সাহায্য এবং খুনের পর মূল অভিযুক্ত গুড্ডু মুসলিমকে আশ্রয় দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তদন্ত চলাকালীন অন্যান্য অভিযুক্তদের বক্তব্যে তাঁর নাম উঠে আসে। এমনকি তাঁর বাড়ি থেকে একটি ডিভিআর এবং একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়, যার ফুটেজে ঘটনার ঠিক পরে গুড্ডু মুসলিমকে আখলাকের বাড়িতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়।
আখলাকের আইনজীবী সওয়াল করেন যে, আতিকের সাথে পারিবারিক সম্পর্কের কারণে তাঁকে মিথ্যাভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো পূর্ববর্তী অপরাধের রেকর্ড নেই এবং তিনি ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে হেফাজতে আছেন।
কিন্তু হাইকোর্ট এই যুক্তিগুলি খারিজ করে দেয়। আদালত জানায়, অন্যান্য অভিযুক্তদের বিবৃতি যদি স্বাধীন সাক্ষী এবং অন্যান্য প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত হয়, তবে তা জামিনের পর্যায়ে বিবেচনা করা যেতে পারে। আদালত মনে করে, মামলার ‘অসাধারণ গুরুত্ব ও সামাজিক প্রভাব’ বিবেচনা করে আখলাককে জামিনে মুক্তি দেওয়ার কোনো ভিত্তি নেই।



