Others

কোম্পানি বিলুপ্ত হওয়ার পর ইস্যু করা চেকে প্রাক্তন পরিচালককে ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত করা যাবে না: কর্ণাটক হাইকোর্ট

কোম্পানি বিলুপ্ত হওয়ার বহু বছর পরে তার নামে ইস্যু করা চেক বাউন্স হলে সেই মামলায় প্রাক্তন পরিচালককে ফৌজদারি দায়ে অভিযুক্ত করা যাবে না বলে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে কর্ণাটক হাইকোর্ট। আদালত জানিয়েছে, আইনিভাবে অস্তিত্বহীন কোনো কোম্পানির নামে ইস্যু করা চেককে বৈধ ও আইনসম্মত আর্থিক দলিল হিসেবে গণ্য করা যায় না।

বিচারপতি এম. নাগপ্রসন্ন রাকেশ রামাকান্তের করা একটি আবেদন মঞ্জুর করে বেঙ্গালুরুর চতুর্থ অতিরিক্ত সিনিয়র সিভিল জজ ও অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চলা সমস্ত ফৌজদারি কার্যক্রম বাতিল করে দেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গিগা নেটওয়ার্কস প্রাইভেট লিমিটেড ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ২০১০ সালের ৩১ অক্টোবর কোম্পানিটি কার্যক্রম বন্ধের জন্য রেজিস্ট্রার অব কোম্পানিজের কাছে আবেদন করে। সেই আবেদনের ভিত্তিতে ২০১১ সালের ১৬ মার্চ কোম্পানিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত (Dissolved) ঘোষণা করা হয়।

অভিযোগকারী সোমশেখর গৌড়া আর.জি.-র দাবি, ২০১৪ সালের নভেম্বরে রাকেশ রামাকান্ত তাঁর কাছ থেকে ৬০ লক্ষ টাকা নগদ ঋণ নেন এবং ৩০ মাসের মধ্যে ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে ২০১৭ সালের জুলাই মাসে গিগা নেটওয়ার্কস প্রাইভেট লিমিটেডের নামে এইচডিএফসি ব্যাংকের ৬০ লক্ষ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। তবে ২০১৭ সালের ৮ আগস্ট চেকটি জমা দিলে ব্যাংক “অ্যাকাউন্ট ক্লোজড” মন্তব্যসহ তা ফেরত দেয়। এরপর অভিযোগকারী নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস আইনের ১৩৮ ধারায় মামলা দায়ের করেন।

আবেদনকারী রাকেশ রামাকান্ত আদালতে দাবি করেন, তিনি ৬০ লক্ষ নয়, মাত্র ২০ লক্ষ টাকা ধার নিয়েছিলেন এবং ইতোমধ্যেই ৮০ লক্ষ টাকারও বেশি পরিশোধ করেছেন। তিনি আরও জানান, কোম্পানিটি ২০১১ সালেই বিলুপ্ত হওয়ায় ২০১৭ সালে কোম্পানির নামে ইস্যু হওয়া কোনো চেক আইনিভাবে কার্যকর হতে পারে না। এছাড়া, চেক ইস্যুর সময় তিনি দুবাইয়ে ছিলেন বলেও দাবি করেন।

রায়ে হাইকোর্ট জানায়, কোনো কোম্পানি বিলুপ্ত হওয়ার পর তার আইনগত সত্তা (Juristic Personality) আর থাকে না। ফলে সেই কোম্পানির নামে পরবর্তী সময়ে ইস্যু করা চেক আইনের দৃষ্টিতে বৈধ নয়। আদালত আরও উল্লেখ করে, অভিযোগপত্রে রাকেশ রামাকান্তকে শুধু কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ওই সময় কোম্পানির দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করতেন—এমন কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগও আনা হয়নি।

সব দিক বিবেচনা করে কর্ণাটক হাইকোর্ট ফৌজদারি মামলাটি সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দেয়। তবে আদালত স্পষ্ট করে জানায়, অভিযোগকারী চাইলে আইন অনুযায়ী অন্য কোনো উপযুক্ত প্রতিকার গ্রহণ করতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button