হাইকোর্ট

মায়ের স্ব-অর্জিত সম্পত্তিতে বিবাহিত পুত্রের কোনো আইনি অধিকার নেই: ওড়িশা হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়

মায়ের নিজের উপার্জিত বা স্ব-অর্জিত সম্পত্তিতে বিবাহিত পুত্রের কোনো আইনগত অধিকার নেই—সম্প্রতি এক মামলার শুনানিতে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রায় প্রদান করেছে ওড়িশা হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, মা যদি না চান তবে পুত্র বা পুত্রবধূ সেই সম্পত্তিতে বসবাস করার দাবি করতে পারেন না। একইসঙ্গে আদালত অভিযুক্ত দম্পতিকে বাড়িটি খালি করে দেওয়ার নির্দেশ বহাল রেখেছে।

মামলার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ: মামলাটির সূত্রপাত ২০১৯ সালে, যখন একজন বৃদ্ধা মা তাঁর পুত্র ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন। ওই মহিলা জানান, ১৯৮৯ সালে তিনি নিজের নামে একটি জমি ও বাড়ি কেনেন। পরবর্তীকালে তাঁর ছেলে প্রেমঘটিত বিয়ে করে স্ত্রীকে নিয়ে ওই বাড়িতে থাকতে শুরু করেন। অভিযোগ ওঠে, বাড়িতে থাকার সুযোগ নিয়ে ওই দম্পতি বৃদ্ধা মা ও তাঁর স্বামীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, বৃদ্ধ দম্পতি নিজেদের বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র থাকতে বাধ্য হন।

নিম্ন আদালত ও আপিল: মায়ের অভিযোগের সত্যতা বিচার করে প্রথমে নিম্ন আদালত এবং পরে আপিল আদালত ওই দম্পতিকে বাড়ি খালি করার নির্দেশ দেয়। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে পুত্র ও পুত্রবধূ ওড়িশা হাইকোর্টে দ্বিতীয় আপিল দায়ের করেছিলেন।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ও আইনি ব্যাখ্যা: মামলার শুনানি চলাকালীন বিচারপতি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইনি দিক তুলে ধরেন:

  • স্ব-অর্জিত সম্পত্তির মালিকানা: বিচারপতি পর্যবেক্ষণ করেন যে, জমির দলিল ও বাড়ির রেকর্ড স্পষ্টভাবে মায়ের নামে রয়েছে। সুতরাং, এটি তাঁর সম্পূর্ণ স্ব-অর্জিত সম্পত্তি।

  • হিন্দু উত্তরাধিকার আইন: আদালত হিন্দু উত্তরাধিকার আইনের ১৪ নম্বর ধারার কথা উল্লেখ করে জানায়, কোনো নারী যখন নিজের নামে সম্পত্তি রাখেন, তখন তিনি সেটির একক ও নিরঙ্কুশ মালিক।

  • যৌথ পরিবারের দাবি নাকচ: পুত্রপক্ষ বাড়িটিকে “যৌথ আবাসন” বা ‘Shared Household’ হিসেবে দাবি করলেও আদালত তা প্রত্যাখ্যান করে। হাইকোর্ট জানায়, স্ব-অর্জিত সম্পত্তিতে এমন দাবি আইনত গ্রহণযোগ্য নয়।

চূড়ান্ত রায়: আদালত পুত্রের দাবিকে “আইনগতভাবে অযোগ্য” বলে অভিহিত করেছে। হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, সন্তানের বৈবাহিক অবস্থার ভিত্তিতে বাবা-মায়ের সম্পত্তিতে থাকার কোনো জন্মগত বা আইনি অধিকার তৈরি হয় না। পূর্ববর্তী আদালতের উচ্ছেদ (Eviction) এবং প্রবেশ নিষেধের (Injunction) আদেশ বহাল রেখে আদালত বৃদ্ধা মায়ের পক্ষেই রায় দেয়।

Case Title: Chandramani Samal and another vs. Sukanti Samal & Others

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button