খবরাখবর

আইনি নথিতে AI-সৃষ্ট কাল্পনিক মামলার রেফারেন্স! আইনজীবীর দাখিল করা ১০০-এর বেশি ‘ভুয়া’ নজির খতিয়ে দেখবে সুপ্রিম কোর্ট

আইন পেশায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর ব্যবহার নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে উদ্বেগ চলছে, সেই প্রেক্ষাপটে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট একটি অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে আদালতের কাছে দাখিল করা একটি আইনি নথিতে ১০০-টিরও বেশি কাল্পনিক বা এআই-সৃষ্ট (AI-hallucinated) মামলার নজির ব্যবহার করা হয়েছে।

বিচারপতি দীপাঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মসিহ-এর একটি বেঞ্চ এই বিষয়টি নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে। বেঞ্চ মৌখিকভাবে সতর্ক করে বলেছে যে, যদি এই মামলাগুলির উদ্ধৃতি সত্যিই মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীকে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে।

এই ঘটনাটি ‘দীপক রাহেজা বনাম ওমকারা অ্যাসেট রিকনস্ট্রাকশন’ মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত। এই মামলাটি বেঙ্গালুরুর ‘জিষ্টাড হোটেলস’-এর দেউলিয়া সংক্রান্ত একটি বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত। আবেদনকারীর পক্ষে আদালতের কাছে একটি ‘রিজইনডার’ (পাল্টা জবাব) দাখিল করা হয়। এই নথির শুনানির সময় ওমকারা অ্যাসেট রিকনস্ট্রাকশন-এর পক্ষে উপস্থিত থাকা সিনিয়র অ্যাডভোকেট নীরজ কিষাণ কাউল অভিযোগ করেন যে, বিপক্ষের নথিতে উদ্ধৃত শতাধিক মামলার নজির সম্ভবত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা টুল দ্বারা তৈরি ‘বিভ্রান্তি’ বা ‘হ্যালুসিনেশন’-এর ফল। অর্থাৎ, মামলাগুলি বাস্তবে কোথাও নেই।

সুপ্রিম কোর্ট এই অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেছে। কারণ আইন পেশায় এই ধরনের ‘ভুয়া’ আইনি নজির বা তথ্য ব্যবহার করা বিচার ব্যবস্থার মৌলিক নীতির পরিপন্থী। আদালত স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এই ধরনের অপেশাদারিত্ব বা অসততা সহ্য করা হবে না।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বজুড়ে আইনি পেশায় এআই-এর ব্যবহার বাড়ার ফলে এই ধরনের ‘হ্যালুসিনেটেড’ বা কাল্পনিক তথ্য ব্যবহারের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র এবং দিল্লিতেও হাইকোর্টের মতো আদালত আইনজীবীদের এআই-সৃষ্ট মিথ্যা নজির ব্যবহারের জন্য জরিমানা করেছে বা সতর্ক করেছে।

সুপ্রিম কোর্টের এই পদক্ষেপ আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত সকলের জন্য একটি কঠোর বার্তা বহন করছে। বিশেষজ্ঞদের মত হলো, আইনজীবীদের অবশ্যই এআই টুল ব্যবহার করার পরে তাদের দেওয়া আইনি নজিরগুলি ম্যানুয়ালি বা প্রথাগত পদ্ধতি ব্যবহার করে যাচাই করে নেওয়া উচিত, যাতে প্রযুক্তির কারণে বিচারের পবিত্রতা ক্ষুন্ন না হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button