
সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) করার একটি আবেদনকে কেন্দ্র করে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) নিয়ে এই মামলার আবেদনটি করেছিলেন একজন আইনজীবী। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে শুনানির সময় আদালত ওই আইনজীবীকে তীব্রভাবে সতর্ক করে দেয়।
আদালতের কড়া প্রতিক্রিয়া
প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ আবেদনকারীকে সরাসরি প্রশ্ন করেন, “এই ধরনের ভিত্তিহীন আবেদন জমা দেওয়ার লাইসেন্স আপনাকে কে দিয়েছে?” বিচারপতিরা মনে করেন, এই অভিযোগগুলো পুরোপুরি অর্থহীন এবং আইনের সঠিক ব্যবহারের বদলে অপব্যবহার করা হয়েছে। আদালত স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয় যে, কোনো রাজনৈতিক বা আদর্শগত মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে সেটিকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে এফআইআর করতে হবে।
পূর্বের জরিমানা ও আদালতের নির্দেশ
এর আগে রাজস্থান হাইকোর্টও এই আইনজীবীর আবেদনকে ভিত্তিহীন মনে করে তাকে ৫০,০০০ টাকা জরিমানা করেছিল। সুপ্রিম কোর্ট অবশ্য সেই জরিমানার আদেশটি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে। তবে আদালত শর্ত দিয়েছে যে, ওই আইনজীবী যদি ভবিষ্যতে আবারও এমন কোনো ভিত্তিহীন আবেদন করেন বা তার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন, তবে তাকে সেই জরিমানার টাকা অবশ্যই দিতে হবে।
আদালতের বক্তব্য অনুযায়ী, সিএএ-র মতো বিতর্কিত আইনকে চ্যালেঞ্জ করার আইনি পথ খোলা আছে, কিন্তু সেটা সঠিক আইনি যুক্তি দিয়ে করতে হবে। অপরাধমূলক মামলা হিসেবে এমন দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। শুনানি চলাকালীন আইনজীবী নিজের ভুল বুঝতে পেরে মামলাটি প্রত্যাহার করে নেন এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ আর করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দেন।
বর্তমান প্রেক্ষাপট
বর্তমানে সিএএ-র সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে অনেকগুলো মামলা চলছে। জানা গেছে, আগামী ৫ মে ২০২৬ থেকে এই বিষয়ে চূড়ান্ত শুনানি শুরু হবে, যেখানে সরকার ও বিভিন্ন পক্ষ তাদের যুক্তি তুলে ধরবে।
পরিশেষে, সুপ্রিম কোর্ট এই বার্তার মাধ্যমে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আইনি ভিত্তি ছাড়া ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক ক্ষোভকে অপরাধমূলক মামলায় রূপান্তর করার চেষ্টা করা আইনজ্ঞদের সাজে না।



