
শুধুমাত্র নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প পেপারে স্বাক্ষর করে তৈরি করা কোনো “চুক্তিভিত্তিক সম্পর্ক” হিন্দু আইনের অধীনে বৈধ বিবাহ হিসেবে গণ্য হবে না। সম্প্রতি একটি মামলার শুনানিতে এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট করেছে, ধর্মীয় আচার বা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কেবল চুক্তির মাধ্যমে গড়ে ওঠা সম্পর্কের ভিত্তিতে দ্বি-বিবাহ বা বৈবাহিক নির্যাতনের মতো ফৌজদারি অভিযোগ আনা সম্ভব নয়।
মামলার প্রেক্ষাপট
জনৈক এক ব্যক্তি ও এক মহিলার মধ্যে ২০১১ সালে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার ভিত্তিতে তারা দীর্ঘ তিন বছর একসঙ্গে বসবাস করেন। পরবর্তীকালে ২০১৪ সালে ওই ব্যক্তি অন্য এক মহিলাকে আইনত রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করেন। এরপরই প্রথম সঙ্গী ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডসংহিতার ৪৯৪ (দ্বি-বিবাহ) এবং ৪৯৮এ (স্ত্রী নির্যাতন) ধারায় মামলা দায়ের করেন। অভিযোগকারী মহিলার দাবি ছিল, স্ট্যাম্প পেপারে সই করার মাধ্যমেই তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
মামলাটি বিচার করতে গিয়ে বিচারপতি উদয় কুমার জানান, হিন্দু বিবাহ আইনে বিয়ের জন্য নির্দিষ্ট ধর্মীয় আচার ও অনুষ্ঠান পালন করা বাধ্যতামূলক। কেবল স্ট্যাম্প পেপারে সই করে কোনো সম্পর্ককে আইনিভাবে ‘বিবাহ’ বলা যায় না। আদালতের ভাষায়, এই ধরনের চুক্তিভিত্তিক সম্পর্ক আইনের চোখে “শূন্য” (Legal Nullity) বা অকার্যকর।
আদালত আরও ব্যাখ্যা করে যে:
- দ্বি-বিবাহের শর্ত: ৪৯৪ ধারায় দ্বি-বিবাহের অভিযোগ প্রমাণ করতে হলে প্রথম বিবাহটি আইনগতভাবে বৈধ হওয়া জরুরি। যেহেতু এই ক্ষেত্রে প্রথম সম্পর্কটি বৈধ বিয়ে ছিল না, তাই দ্বিতীয় বিয়ের কারণে দ্বি-বিবাহের অভিযোগ খাটে না।
- নির্যাতনের অভিযোগ: সম্পর্কটি যখন আইনের চোখে স্বামী-স্ত্রীর নয়, তখন ৪৯৮এ ধারায় বৈবাহিক নির্যাতনের অভিযোগও আইনত টেকসই হয় না।
রায়ের প্রভাব
এই যুক্তির ভিত্তিতে আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে চলা ফৌজদারি কার্যক্রম বাতিল করে দেয়। তবে আদালত এও জানিয়েছে যে, অভিযোগকারী মহিলা চাইলে গার্হস্থ্য হিংসা আইনের মতো অন্যান্য প্রযোজ্য আইনের অধীনে প্রতিকার চাইতে পারেন। এই রায়ের মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হলো যে, হিন্দু আইনে বিবাহ কোনো সাধারণ চুক্তি নয়; এটি ধর্মীয় ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া একটি স্বীকৃত সামাজিক প্রতিষ্ঠান।



