
দিল্লি হাইকোর্ট সম্প্রতি বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়াকে (BCI) প্রশ্ন করেছে যে, বিদেশে আইন নিয়ে পড়াশোনা করা ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ‘যোগ্যতা নির্ণায়ক পরীক্ষা’ (qualifying exam) কেন সময়মতো নেওয়া হয়নি, যার ফলে তাদের সর্বভারতীয় বার পরীক্ষা (AIBE)-এ বসতে দেরি হচ্ছে।
আদালতে সানিল পট্টনায়ক নামে লন্ডন থেকে আইন ডিগ্রিধারী এক ব্যক্তি মামলাটি দায়ের করেন। তিনি গোয়ার ‘ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ লিগ্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ’ (IIULER) থেকে একটি ‘ব্রিজ কোর্স’ সম্পূর্ণ করেছেন। ভারতে ওকালতি করার জন্য বিদেশি ডিগ্রিধারীদের BCI-এর নির্দেশিত ব্রিজ কোর্স করার পরেও একটি যোগ্যতা নির্ণায়ক পরীক্ষা দিতে হয় এবং তারপর AIBE পরীক্ষা দিতে হয়। এই অতিরিক্ত পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন।
বিচারপতি শচীন দত্ত BCI-এর এই বিলম্বের সমালোচনা করে বলেন, “এই যুবক আইনজীবী বহু মাস আগে তার ব্রিজ কোর্স শেষ করার পরেও ঘরে বসে আছেন। আপনারা এই সমস্যা তৈরি করেছেন, আপনারাই এর সমাধান করুন। আপনাদের আগেই এই যোগ্যতা নির্ণায়ক পরীক্ষা নেওয়া উচিত ছিল। এভাবে তার একটি বছর নষ্ট হয়ে যাবে। এখন এক বছর পর তার AIBE-তে বসার সুযোগ আসবে।”
আদালত BCI-এর আইনজীবীকে নির্দেশ দিয়েছে যে AIBE পরীক্ষার আগে যোগ্যতা নির্ণায়ক পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব কিনা, সে বিষয়ে নির্দেশ নিয়ে জানাতে হবে।
আবেদনকারী আইনজীবী আদালতে আবেদন করেন যে, তাকে প্রথমে যোগ্যতা নির্ণায়ক পরীক্ষা না দিয়েই AIBE-তে বসার অনুমতি দেওয়া হোক। যদিও BCI-এর আইনজীবী সেই আবেদনের বিরোধিতা করে বলেন যে AIBE শুধুমাত্র ভারতে একজন অ্যাডভোকেট হিসেবে নথিভুক্ত প্রার্থীদের জন্য প্রযোজ্য।
আদালত আরও প্রশ্ন তোলে যে, BCI কেন এমনভাবে পরীক্ষার সময়সূচি তৈরি করল না যাতে বিদেশি ডিগ্রিধারীরাও যথাসময়ে AIBE পরীক্ষায় বসতে পারে। আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, BCI নিজেই বিদেশি এবং ভারতীয় আইনি পাঠ্যক্রমের মধ্যেকার পার্থক্য পূরণের জন্য ব্রিজ কোর্স চালু করেছে। এই ব্রিজ কোর্স করার পরেও আবার যোগ্যতা নির্ণায়ক পরীক্ষার শর্ত চাপানোয় পুরো প্রক্রিয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।



