
কলকাতা হাইকোর্ট পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদস্যপদ থেকে বিধায়ক মুকুল রায়কে অযোগ্য ঘোষণা করেছে। কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) টিকিটে নির্বাচিত মুকুল রায় ২০২১ সালের জুন মাসে শাসক দল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসে (এআইটিসি) যোগ দেওয়ার ফলেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে যে, মুকুল রায় ২০২১ সালের ১১ জুন তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেছিলেন, যা প্রতিষ্ঠিত। ফলে সংবিধানের দশম তফসিল (দলত্যাগ বিরোধী আইন) অনুযায়ী তিনি বিধায়ক পদ থেকে অযোগ্য। আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে এই অযোগ্যতা ২০২১ সালের ১১ জুন থেকেই কার্যকর হবে। এই রায়ের ফলে মুকুল রায়কে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির (PAC) চেয়ারম্যান পদ থেকেও অপসারণ করা হয়েছে।
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি বিধায়ক অম্বিকা রায় স্পিকারের কাছে মুকুল রায়কে অযোগ্য ঘোষণার আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু স্পিকার ২০২২ সালে দুই দফায় সেই আবেদন খারিজ করে দেন। স্পিকার তাঁর সিদ্ধান্তে বলেছিলেন যে দলত্যাগ প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ নেই এবং এই প্রক্রিয়াটি ‘কোয়াসি-ক্রিমিনাল ট্রায়াল’-এর মতো, যেখানে ‘যুক্তিসঙ্গত সন্দেহের ঊর্ধ্বে’ প্রমাণ প্রয়োজন।
হাইকোর্ট স্পিকারের সেই সিদ্ধান্ত খারিজ করে জানায় যে, দলত্যাগ সংক্রান্ত মামলাগুলি ফৌজদারি বিচার (criminal trial) নয়, বরং এক্ষেত্রে দেওয়ানি মামলার মতো ‘সম্ভাবনার প্রাধান্য’ (preponderance of probabilities) নীতিতে প্রমাণ বিচার করতে হবে। আদালত লক্ষ্য করে যে, তৃণমূলের সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁর উপস্থিতি বা দলবদলের অভিযোগ মুকুল রায় অস্বীকার করেননি। বিধানসভার মেয়াদ সীমিত এবং স্পিকারের আইনের ভুল প্রয়োগের কথা মাথায় রেখে হাইকোর্ট মামলাটি পুনরায় স্পিকারের কাছে না পাঠিয়ে সরাসরি রায় দেয়।



