মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি জি আর স্বামীনাথনের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট নোটিশ দায়ের করল INDIA জোট
দরগাহ-দীপ প্রথা সংক্রান্ত রায়ে 'পক্ষপাতিত্বের' অভিযোগ, ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুললেন বিরোধী সাংসদরা

মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি জি আর স্বামীনাথন-এর বিরুদ্ধে ‘INDIA’ জোটের নেতৃত্বে একটি ইমপিচমেন্ট নোটিশ (Removal Motion) দায়ের করা হয়েছে। বিচারপতি স্বামীনাথনের কিছু বিতর্কিত রায়, বিশেষত একটি ধর্মীয় স্থানের ‘দীপ প্রথা’ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধী জোট তাঁর নিরপেক্ষতা ও আচরণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে এই নোটিশ জমা দেওয়া হয়। নোটিশে ১২০ জন সাংসদ স্বাক্ষর করেছেন।
বিতর্কের পটভূমি: দরগাহ-দীপ প্রথা
এই বিতর্কের শুরু হয় তামিলনাড়ুর মাদুরাইয়ের থিরুপারানকুনদ্রাম পাহাড়ে (Thiruparankundram Hill) একটি ঐতিহাসিক দীপ প্রার্থনা এবং মন্দির/দরগাহ সংক্রান্ত বিবাদকে কেন্দ্র করে।
সম্প্রতি বিচারপতি স্বামীনাথন নির্দেশ দেন যে, ঐ পাহাড়ি চূড়ায় অবস্থিত ‘Deepathoon’ (দীপস্তম্ভ) থেকে ভক্তদের দীপ জ্বালাতে দেওয়া উচিত। তিনি এই প্রথাকে ঐতিহ্যবাহী মন্দিরের অংশ বলে মনে করেন। এই রায়ে দরগাহ কর্তৃপক্ষের আপত্তি নামঞ্জুর করা হয় এবং মন্দিরে নিরাপত্তা রক্ষীর উপস্থিতিতে ভক্তদের দীপ জ্বালানোর অনুমতি দেওয়া হয়।
তবে, রাজ্য সরকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার আশঙ্কায় আদালতের এই আদেশ কার্যকর করেনি। ফলে, ঐ স্থানে দীপ জ্বালানো সম্ভব হয়নি এবং বিষয়টি ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেয়।
ইমপিচমেন্ট নোটিশে মূল অভিযোগ
‘INDIA’ জোটের দায়ের করা নোটিশে বিচারপতি স্বামীনাথনের আচরণ ও বিচারপ্রক্রিয়ার ধরণ নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে:
১. পক্ষপাতিত্ব: নোটিশে দাবি করা হয়েছে, তাঁর আচরণ ‘বিচারিক নিরপেক্ষতা (Judicial Impartiality)’, ‘স্বচ্ছতা’ এবং ‘আচরণগত নিরপেক্ষতা (Secular Functioning)’-এর বিশ্বাসের ক্ষতি করেছে। ২. অযৌক্তিক সুবিধা: বিশেষভাবে অভিযোগ করা হয়েছে যে, বিচারপতি একটি “নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের আইনজীবীদের” প্রতি অযৌক্তিক সুবিধা দিয়েছেন। ৩. রাজনৈতিক প্রভাব: আরও অভিযোগ আনা হয়েছে যে, তাঁর কিছু রায় একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক মতাদর্শের (communal ideology) দ্বারা প্রভাবিত। জোটের দাবি, তাঁর এই ধরনের সিদ্ধান্ত দেশের সাংবিধানিক ধর্মনিরপেক্ষ নীতি ও মূল্যবোধের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
সাংসদদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই নোটিশের সঙ্গে পূর্বে রাষ্ট্রপতি এবং ভারতের প্রধান বিচারপতির (CJI) কাছে প্রেরিত একাধিক চিঠি জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া
‘INDIA’ জোটের এই পদক্ষেপ বিচার ব্যবস্থার ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির একটি বিরল ঘটনা। এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে:
-
বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা: যারা এই পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন, তারা বলছেন, এটি বিচার ব্যবস্থার শুদ্ধতা এবং ধর্মনিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
-
রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ: অন্যদিকে, সমালোচকরা মনে করছেন, বিচারপতির সিদ্ধান্তকে এইভাবে রাজনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জ জানানো বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার একটি চেষ্টা।
যদি এই ইমপিচমেন্ট নোটিশ সংসদে গৃহীত হয়, তাহলে এটি বিচারপতির সিদ্ধান্ত এবং আচরণ যাচাই করার ক্ষেত্রে একটি নতুন নজির সৃষ্টি করবে। তবে, যতক্ষণ না নোটিশটি সংসদীয় প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হচ্ছে, ততক্ষণ এটি রাজনৈতিক এবং আইনি মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।



