হাইকোর্ট

অক্ষম বন্দিদের জন্য নতুন নিয়ম তৈরির নির্দেশ দিল্লি হাইকোর্টের

Kailash Wati vs. State (Govt. of NCT of Delhi)

সম্প্রতি দিল্লি হাইকোর্ট এক মানবিক রায়ে, ৮১ বছর বয়সী শয্যাশায়ী এক দোষী সাব্যস্ত মহিলাকে তাঁর বাড়িতে আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছে। আদালত এটিকে ‘হোম কনফাইনমেন্ট’ বা গৃহবন্দীত্ব হিসেবে গণ্য করেছে এবং এটিকেই তাঁর হেফাজত হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলেছে।

বিচারপতি অমিত মহাজন এই মামলায় বিশেষভাবে লক্ষ করেন যে, গুরুতর অসুস্থতা বা বার্ধক্যজনিত কারণে যেসব বন্দি প্যারোল বা ফার্লোর মেয়াদ শেষে জেল কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করতে অক্ষম, তাদের জন্য আইনে কোনো সুস্পষ্ট নিয়ম নেই। আদালত এই পরিস্থিতিকে একটি “আইনি ফাঁক” (legal limbo) বলে অভিহিত করে।

মামলার পটভূমি: কৈলাশ ওয়াটি নামে ওই বৃদ্ধা তাঁর স্বামী ও ছেলের সাথে আইপিসি-এর ৪৯৮এ/৩০৪বি ধারায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন এবং তাঁদের সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হয়।

  • ২০০২ সালে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর, আপিল খারিজ হলে তিনি ২০১৭ সালে আত্মসমর্পণ করেন।
  • তাঁর স্বামী ও পুত্র কারাগারে মারা যান।
  • ২০১৭ সালে কারাগারে পড়ে গিয়ে তিনি গুরুতর আহত হন এবং তাঁর উরু ভেঙে যায়। তারপর থেকে তাঁর স্বাস্থ্য অত্যন্ত খারাপ।
  • তখন থেকেই মানবিক এবং চিকিৎসার কারণে আদালতের নির্দেশে তাঁর প্যারোলের মেয়াদ বারবার বাড়ানো হয়েছে।
  • সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে যে তিনি সম্পূর্ণভাবে শয্যাশায়ী এবং অন্যের সাহায্য ছাড়া দৈনন্দিন কাজ করতে পারেন না।

আদালতের নির্দেশনা: হাইকোর্ট স্বীকার করেছে যে প্যারোলের মেয়াদ বাড়ানোর আইনি সীমা রয়েছে। তাই আদালত সরাসরি প্যারোলের মেয়াদ না বাড়িয়ে একটি নতুন পথ খুঁজে নেয়। বিচারপতি মহাজন বলেন, “দোষী সাব্যস্ত হওয়ার কারণে একজন বন্দিকে তাঁর মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায় না এবং এমন শাস্তি দেওয়া যায় না যা বন্দির মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে।”

আদালত নির্দেশ দেয়:
  1. হোম কনফাইনমেন্ট: কৈলাশ ওয়াটিকে তাঁর বাড়িতেই আটক থাকতে হবে এবং এটিকে তাঁর হেফাজত হিসেবে গণ্য করা হবে। তাঁর প্রি-ম্যাচিউর মুক্তির বিষয়টি কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত এটি কার্যকর থাকবে।
  2. নতুন নিয়ম তৈরি: দিল্লি সরকার বা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা গুরুতর অসুস্থ বা বার্ধক্যজনিত কারণে অক্ষম বন্দিদের জন্য দ্রুত একটি উপযুক্ত নিয়ম তৈরি করে। কারণ এই বন্দিরা বর্তমানে “আইনি ফাঁকের” শিকার।

এই রায়টি দেখায় যে, শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানবিক মর্যাদাও গুরুত্বপূর্ণ। কঠোর শাস্তিপ্রাপ্ত বন্দির মৌলিক অধিকার এবং মানবিক প্রয়োজনকেও আদালত গুরুত্ব দেয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button