
রাজস্থান পুলিশের কার্যকলাপে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। একটি বিশেষ মামলায় পুলিশ যেভাবে তদন্ত করেছে এবং যেভাবে আইনি প্রক্রিয়া চালিয়েছে, তা নিয়ে আদালত গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সুপ্রিম কোর্ট মন্তব্য করেছে, পুলিশের এই আচরণ একটি পুলিশ বাহিনীর জন্য “অশোভন” বা “অযোগ্য” (unbecoming of a police force)।
সংক্ষিপ্ত কেস
বিচারপতি এহসানউদ্দিন আমানুল্লাহ এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের একটি বেঞ্চ সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ মামলা নিয়ে আলোচনা করেছে। ২০১৭ সালে এক মহিলা অভিযোগকারী রাজস্থান হাইকোর্টে মামলা করেন যে, তিনি অষ্টম প্রতিপক্ষের দ্বারা তাড়িত (stalking) হচ্ছেন এবং নবম প্রতিপক্ষ (যিনি মহারাষ্ট্রের একজন পুলিশ অফিসার) তাকে সাহায্য করছেন। তিনি এই দুই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা চেয়েছিলেন।
২০১৮ সালে হাইকোর্ট মামলাটি নিষ্পত্তি করে, কর্তৃপক্ষের এই বক্তব্য নথিভুক্ত করে যে মামলার “নেতিবাচক চূড়ান্ত রিপোর্ট” (Negative Final Report) জমা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, আদালত কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয় যাতে আবেদনকারী কোনোভাবে হয়রানির শিকার না হন।
পরবর্তীকালে, আবেদনকারী হাইকোর্টের আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগে আদালত অবমাননা মামলা দায়ের করেন। অবশেষে, ২০২৪ সালে তিনি এই অবমাননার মামলাটি রাজস্থান থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরের জন্য সুপ্রিম কোর্টে আসেন। গতকাল সুপ্রিম কোর্ট জানতে পারে যে পুলিশ অভিযোগকারীর মামলায় একটি চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করেছিল, কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট সেই রিপোর্টের সঙ্গে একমত না হয়ে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। এই পুনঃতদন্তের রিপোর্ট ২৯শে নভেম্বরের মধ্যে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও, আবেদনকারীর অভিযোগ অনুসারে, তদন্তকারী অফিসার কোনো সাড়া দিচ্ছেন না।
মামলার প্রেক্ষাপট ও সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ
-
মূল ঘটনা: মামলাটি রাজস্থান পুলিশের তদন্ত সম্পর্কিত, যেখানে অভিযোগ উঠেছে যে পুলিশ যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি এবং দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা দেখিয়েছে। সুনির্দিষ্টভাবে, মামলাটি কোনও বিশেষ ব্যক্তিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার বা হয়রানি করার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল বলে আদালতের মনে হয়েছে।
-
আদালতের মন্তব্য: বিচারপতিদের বেঞ্চ পুলিশের তদন্তের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আদালত মন্তব্য করেছে, “আমরা এই ধরনের তদন্ত এবং পুলিশের আচরণ দেখে সত্যিই হতবাক।” সুপ্রিম কোর্ট আরও বলেছে যে এটি কেবল দক্ষতার অভাব নয়, বরং এটি ইঙ্গিত দেয় যে পুলিশের কার্যক্রমে গুরুতর ত্রুটি ছিল।
-
“অশোভন” আচরণ: আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুসারে, যে প্রক্রিয়ায় পুলিশ অভিযুক্তদের সঙ্গে আচরণ করেছে এবং তথ্য সংগ্রহ করেছে, তা নৈতিকতা এবং আইনি মানদণ্ড উভয় ক্ষেত্রেই হতাশাজনক ছিল। .
সুপ্রিম কোর্টের কঠোর নির্দেশাবলী
রাজস্থান পুলিশের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্ট কিছু কঠোর নির্দেশ দিয়েছে:
-
সিট (SIT) গঠন: আদালত রাজস্থানের ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশকে (DGP) অবিলম্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করার নির্দেশ দিয়েছে। এই দলটি অবশ্যই নিরপেক্ষ এবং উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত হবে।
-
নতুন করে তদন্ত: সিটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা এই মামলাটি প্রথম থেকে সম্পূর্ণ নতুন করে এবং নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে।
-
আচরণের মূল্যায়ন: সুপ্রিম কোর্ট আরও বলেছে যে, এই মামলায় জড়িত সমস্ত পুলিশ কর্মীর ভূমিকা ও আচরণ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মূল্যায়ন করা উচিত এবং প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
-
রিপোর্ট জমা: সিটকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি ও চূড়ান্ত রিপোর্ট সুপ্রিম কোর্টে জমা দিতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ স্পষ্ট করে দেয় যে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে অবশ্যই তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে এবং প্রতিটি নাগরিকের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।



