ভোটার তালিকা সংশোধনে গতি আনতে ভিনরাজ্যের বিচারকদের সাহায্য নিচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট: পশ্চিমবঙ্গে ৮০ লাখ অসংগতি দূর করার লক্ষ্য

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশালাকার কাজ দ্রুত শেষ করতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল পঞ্চোলীর বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে যে, কেবল রাজ্যের বর্তমান বিচারকই নন, প্রয়োজনে ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড থেকেও বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তাদের এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হবে।
প্রেক্ষাপট ও চ্যালেঞ্জ: কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির পেশ করা রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR)-এর আওতায় প্রায় ৮০ লাখ ভোটারের নাম ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ (যৌক্তিক অসংগতি) এবং ‘আনম্যাপড’ তালিকায় রয়েছে। বর্তমানে এই বিশাল অংকের দাবি ও আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য প্রায় ২৫০ জন জেলা ও অতিরিক্ত জেলা জজ কাজ করছেন। রিপোর্ট অনুসারে, বর্তমান গতিতে এই কাজ শেষ করতে আরও অন্তত ৮০ দিন সময় লাগবে, যা নির্বাচনী সময়সীমার নিরিখে অত্যন্ত দীর্ঘ।
সুপ্রিম কোর্টের নতুন নির্দেশিকা: কাজের গতি বাড়াতে সুপ্রিম কোর্ট কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে: ১. অভিজ্ঞ সিভিল বিচারক নিয়োগ: এখন থেকে ৩ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সিভিল বিচারকদেরও এই অসংগতি দূর করার কাজে নিয়োজিত করা যাবে। ২. ভিনরাজ্য থেকে সহায়তা: কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিদের কাছে অনুরোধ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ বিচারিক কর্মকর্তাদের পশ্চিমবঙ্গে এনে এই কাজে লাগানো হবে। তাঁদের যাতায়াত, আবাসন এবং সম্মানীর যাবতীয় খরচ বহন করবে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)।
পরিচয়পত্র সংক্রান্ত ছাড়: ভোটারদের পরিচয় প্রমাণের ক্ষেত্রে আদালত আরও স্পষ্ট করেছে যে, আধার কার্ড ছাড়াও মাধ্যমিকের (দশম শ্রেণি) প্রবেশপত্র এবং পাস সার্টিফিকেট—যা ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর আগে জমা দেওয়া হয়েছে—তা বৈধ নথি হিসেবে গণ্য হবে।
চূড়ান্ত তালিকা ও সময়সীমা: সুপ্রিম কোর্ট আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের অনুমতি দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, যাচাইকরণ প্রক্রিয়া বাকি থাকলেও সাপ্লিমেন্টারি বা অতিরিক্ত তালিকা ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা যাবে। এই সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নামগুলোও ২৮ ফেব্রুয়ারির চূড়ান্ত তালিকার অংশ হিসেবেই বিবেচিত হবে।
উপসংহার: রাজ্য প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং কাজের বিশাল চাপ সামলাতেই সুপ্রিম কোর্টের এই বিশেষ হস্তক্ষেপ। এর মাধ্যমে আদালত নিশ্চিত করতে চাইছে যে, ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে একটি স্বচ্ছ এবং নির্ভুল ভোটার তালিকা যাতে কোনোভাবেই থমকে না থাকে।



