
পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়া নিয়ে দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলায় গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া বা নিম্ন আদালতকে এড়িয়ে সরাসরি সর্বোচ্চ আদালতে আসা কতটা গ্রহণযোগ্য, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও আইনি প্রশ্ন
মামলাটি বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের সামনে উঠলে আদালত জানায়, সুপ্রিম কোর্ট প্রতিটি প্রশাসনিক বা বিচারিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরাসরি আপিল শোনার জায়গা নয়। প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, “আমরা সরাসরি বিচারিক আধিকারিকদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল আদালত হিসেবে বসতে পারি না।”
আদালতের মতে, Representation of the People Act, 1950-এর ২২ ও ২৩ নম্বর ধারায় ভোটার তালিকায় নাম সংশোধন বা অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আপিলের ব্যবস্থা রয়েছে। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিদের প্রথমে সেই আইনি পথ অনুসরণ করা উচিত।
আবেদনকারীর যুক্তি
আবেদনকারীদের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী মেনাকা গুরুস্বামী জানান, পশ্চিমবঙ্গের বহু ভোটার, যারা অতীতে নিয়মিত ভোট দিয়েছেন, তাদের নাম রহস্যজনকভাবে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের কোনো নোটিশ বা সিদ্ধান্তের কপি দেওয়া হয়নি। ফলে আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করার সুযোগও তারা পাচ্ছেন না। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণেই তারা সরাসরি সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হয়েছেন।
প্রেক্ষাপট ও বর্তমান স্থিতি
পশ্চিমবঙ্গে চলমান ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়ার সময় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বহু মানুষ তাদের ভোটাধিকার হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন।
বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্ট আবেদনটি খারিজ না করে বরং এই সংক্রান্ত অন্যান্য মামলার সঙ্গে একত্রে শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া এবং নাগরিকদের ভোটাধিকার সুরক্ষায় আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।



