‘ভয়ঙ্কর ও স্তম্ভিত করার মতো’: ৫৫টি শুনানিতে হাজিরা না দেওয়ায় মহারাষ্ট্রের কারা বিভাগকে তীব্র ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের
৪ বছর জেলে থাকা অভিযুক্তের জামিন মঞ্জুর সুপ্রিম কোর্টের, ডিজি কারাকে তদন্তের নির্দেশ

আদালতের শুনানির নির্ধারিত তারিখগুলোতে অভিযুক্তকে হাজির করতে না পারার জন্য মহারাষ্ট্রের কারা কর্তৃপক্ষকে ‘ভয়ঙ্কর এবং স্তম্ভিত করার মতো’ গাফিলতি বলে তীব্র ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি আহসানউদ্দিন আমানুল্লাহ এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চ এই ঘটনায় গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করে চার বছর ধরে জেলে থাকা এক বিচারাধীন আসামিকে জামিন মঞ্জুর করেছে।
বিচারাধীন আসামির ব্যাপক অনুপস্থিতি: ঘটনাটি উলহাসনগরের ভিত্থলওয়াড়ি থানায় ২০২১ সালে একটি খুনের চেষ্টার মামলা সম্পর্কিত। শশী ওরফে শাহী চিকনা বিবেকানন্দ জুরমানি নামের ওই অভিযুক্ত চার বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে বন্দি ছিলেন। তিনি জামিনের আর্জি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।
আদালতে দাখিল করা নথি থেকে জানা যায়, মামলার শুনানির জন্য মোট ৮৫টি তারিখ নির্ধারিত হয়েছিল, কিন্তু তার মধ্যে ৫৫টি তারিখে রাজ্যের কারা কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তকে বিচারকের সামনে হাজির করতে পারেনি। অর্থাৎ শুনানির প্রায় ৬৫% তারিখেই তিনি অনুপস্থিত ছিলেন।
মৌলিক অধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন: বিচারপতিরা এই ব্যাপক গাফিলতিতে স্তম্ভিত হন। বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করে যে, একজন অভিযুক্তকে আদালতে নিয়মিত হাজির করা কেবল দ্রুত বিচারের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্যই জরুরি নয়, বরং আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো—এটি বিচারাধীন আসামির জন্য একটি ‘মৌলিক রক্ষাকবচ’ হিসেবে কাজ করে। এই রক্ষাকবচ নিশ্চিত করে যে বন্দি কারাগারে কোনোভাবে অপব্যবহারের শিকার না হয় এবং সে সরাসরি আদালতের সঙ্গে যোগাযোগ করে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তার কোনো অভিযোগ থাকলে তা জানাতে পারে।
আদালত জোর দিয়ে বলেছে: “আমরা রাজ্যের কর্তৃপক্ষের আচরণে স্তম্ভিত। আমরা দেখতে পেলাম যে এই ধরনের মৌলিক নিরাপত্তার গুরুতর লঙ্ঘন হয়েছে, যা ভয়ঙ্কর এবং স্তম্ভিত করার মতো। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।”
ডিজি-স্তরীয় তদন্তের নির্দেশ: এই গুরুতর ত্রুটির পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট মহারাষ্ট্রের ডিরেক্টর জেনারেল অফ প্রিজনস (কারা বিভাগের প্রধান)-কে ব্যক্তিগতভাবে এই বিষয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। আদালত বলেছে, কারা কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই এই গাফিলতির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আদালত কঠোরভাবে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে, যদি কোনো আধিকারিককে রক্ষা করার বা আড়াল করার চেষ্টা করা হয়, তবে ডিজি প্রিজনস ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন।
তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আগামী দুই মাসের মধ্যে একটি হলফনামা সহ তদন্তের রিপোর্ট ব্যক্তিগতভাবে আদালতে জমা দিতে হবে। রিপোর্টটি পরীক্ষা করার জন্য মামলাটি ২০২৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি আবার তালিকাভুক্ত হবে।
জামিন মঞ্জুর: এই গুরুতর পরিস্থিতি এবং চার বছরেরও বেশি সময় ধরে অভিযুক্তের কারাগারে থাকার বিষয়টি বিবেচনা করে আদালত তাকে জামিন পাওয়ার যোগ্য বলে মনে করে। আদালত অভিযুক্তকে জামিন মঞ্জুর করে এবং ট্রায়াল কোর্ট যে শর্তাবলী আরোপ করবে, সেই অনুযায়ী তাকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেয়।



