খবরাখবর

‘অন্য যুদ্ধ’ এক পুলিশ ও গুটি কয়েক আইনজীবীদের মধ্যে, কে বা কারা সত্যি বলছে? থাকছে ধারাবাহিক প্রতিবেদন, আজ প্রথম কিস্তি

সোশ্যাল মিডিয়া প্রায় দৈনিক নানা নিত্য নতুন খবরে সরগরম থাকে। দেশের জনসাধারণ, সামাজিক মাধ্যমের দৌলতে আজ প্রচণ্ড শক্তিশালী। হাই গাইজ বলে লাইভ করে তোলপাড় করছেন অনেকেই। কেউবা নিজেদের পছন্দ মতো বিষয়ে কন্টেন্ট ক্রিয়েট করছেন। ডাক্তার, আইনজীবী, সাংবাদিক, পুলিশ, ভ্যানওয়ালা, সব্জি বিক্রেতা, মাছ বিক্রেতা কে নেই।  এ ছাড়া রাজনৈতিক তর্জাতো আছেই। এরই মাঝে সামাজিক মাধ্যমে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন এক পুলিশকর্মী। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এক ইনস্পেক্টর দেবাশিস রায়।

তাঁর যুদ্ধটা ঠিক কেমন? উত্তরটা হল একদমই ভিন্ন। তাই, ন্যায় দর্শনের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে তাঁর কর্মকাণ্ড। তিনি সাগরের মাঝে ঝড় তোলার চেষ্টা করছেন। আসুন এবার পুরো কাহিনীতে আসা যাক।

দেশজুড়ে অপরাধের নতুন মাত্রা এসেছে তার নাম সাইবার ক্রাইম। গত পাঁচ বছরে করোনা ভাইরাসের মিউটেশনের মতোই, রোজ বদলাচ্ছে সাইবার ক্রাইমের স্তর। আর এর জালে না জেনে বুঝেই জড়িয়ে পড়ছেন অনেকে। সম্পূর্ণ নির্দোষ হওয়ার পরেও, শিকার হচ্ছেন সাইবার ক্রাইমের। ধরা যাক আপনি একজন মাছ বিক্রেতা, নয়া ডিজিটাল জামানায়, আপনিও গুগল পে, ফোন পে-র মাধ্যমে পণ্য বিকিকিনির অর্থ নিচ্ছেন।

আচমকা একদিন দেখলেন আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়ে গিয়েছে। ব্যাঙ্কে গিয়ে জানতে পারলেন, হরিয়ানাতে একটি সাইবার ক্রাইম হয়েছে, এবং সেখানকার একটি সাইবার ক্রাইম থানায় FIR হয়েছে। এবং সেই সাইবার ক্রাইমের একটা অংশের টাকা ঢুকেছে আপনার অ্যাকাউন্টে। তাই আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ বা লিয়েন করা হয়েছে। অনেকে সেই মাছ বিক্রির একটা অংশের টাকা, ধরা যাক ৩০০ টাকা ফ্রিজ হয়েছে, কারওবা আরও বেশি অঙ্কের টাকা।

এখন আপনি বুঝবেন কি করে? আপনিতো রোজ মাছ বিক্রি করেন, শয়ে শয়ে ক্রেতা, কার টাকা আপনার অ্যাকাউন্টে ঢুকলো, বোঝা মুশকিল, অর্থাৎ জনসাধারণের ঘেঁটে ঘ অবস্থা। একে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ, তার উপরে হরিয়ানাতে সাইবার ক্রাইমের মামলা, আবার মাছ বিক্রি করতে গিয়ে যদি এমন ঘটনা ঘটে? তাহলে কি পুলিশ আপনাকে গ্রেফতার করবে? কী করবেন? হরিয়ানা গিয়ে সাইবার ক্রাইম থানাতে সমস্যা মেটাবেন? পুলিশ যদি মোটা অঙ্কের ঘুষ চায়? পুলিশ যদি গ্রেফতার করে? কারণ, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে পুলিশ যে কী  প্রাণী সবারই জানা, কথায় বলে বাঘে ছুঁলে আঠারো ঘা, পুলিশ ছুঁলে তার ডবল। সারা দেশ জুড়ে শত শত অভিযোগ জমা পড়ছে দেশের আদালত গুলিতেই। তাহলে একমাত্র ভরসার জায়গা হল আইনজীবী।

হ্যাঁ আর এই ভয়, চূড়ান্ত ভয়কে হাতিয়ার করেই একটা অংশের আইনজীবী ফাঁদ পাতছেন। আর সাধারণ মানুষ! ৩০০ টাকার জট ছাড়াতে, চল্লিশ, পঞ্চাশ হাজার টাকা খসিয়ে ফেলছেন, স্রেফ, ভিন রাজ্যে জেলে পচার ভয়ে। কোর্ট কাছারির ভয়ে। আর এখানেই ঘা মারা চেষ্টা করে যাচ্ছেন, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের জনপ্রিয় অফিসার দেবাশিস রায়। সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে, রোজ ফোস্ট দিচ্ছে, সাধারণ মানুষের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন, বারবার। কিন্তু তিনি কি সত্যি বলছেন? নাকি, তাঁর অন্য কোনও অভিসন্ধি রয়েছে? তাঁর উদ্দেশ্য যদি ঠিক হয়, সাধারণ মানুষকে সচেতন করার, তাহলে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের আর অন্য কোনও অফিসারকে এমন বলতে দেখা যাচ্ছে না কেন?

অনেকেই আছেন সাইবার ক্রাইম নিয়ে জ্ঞান দিচ্ছেন প্রতিদিন। কিন্তু নিজের হকের টাকা অনলাইনে নেওয়ার পরেও, কেন হেনস্থা হতে হচ্ছে, তার সদুত্তর দিতে বা নির্ভয়ে থাকার বার্তা দিতে পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের দেখা যাচ্ছে না কেন? আর যে আইনজীবীরা ভয়কে হাতিয়ার করে, পকেট কাটার বন্দোবস্ত করছে, তারাই বা কারা? সেই আইনজীবীরা কি কোনও বেআইনি কাজ করছে? সব উত্তর মিলবে পরবর্তী পর্বগুলিতে।

সমস্ত আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও হোয়াটস অ্যাপ চ্যানেল ফলো করুন।

নজর রাখুন পরবর্তী পর্বে…

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button