
দিল্লি মেট্রোর ভেতরে নারী যাত্রীকে যৌন হেনস্থার ঘটনায় এক ব্যক্তিকে দেওয়া সাজা বহাল রেখেছে দিল্লির সাকেত আদালত। গণপরিবহনে নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় আদালতের এই কঠোর অবস্থান বিচারব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় করল।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২১ সালে দিল্লি মেট্রোর ইয়েলো লাইনে। ভুক্তভোগী নারী যখন সাকেত থেকে আইএনএ স্টেশনের দিকে যাচ্ছিলেন, তখন অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে নিজের শরীর উন্মুক্ত করে অত্যন্ত অশ্লীল আচরণ করতে শুরু করে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি হস্তমৈথুন করার পাশাপাশি ওই নারীকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শও করে। এই নক্কারজনক ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে ওই নারী চিৎকার করলে সহযাত্রীরা এগিয়ে আসেন এবং অভিযুক্তকে মেট্রো থেকে নামিয়ে দেন। পরবর্তীতে আইএনএ মেট্রো পুলিশ স্টেশনে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪ ও ৩৫৪এ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
নিম্ন আদালতের রায় ও আপিল
মামলার বিস্তারিত শুনানির পর ট্রায়াল কোর্ট বা নিম্ন আদালত অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালত তাকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা প্রদানের নির্দেশ দেয়। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি সাকেত জেলা আদালতে আপিল করেন। অভিযুক্তের আইনজীবীর যুক্তি ছিল, ঘটনাস্থলে কোনও সিসিটিভি ফুটেজ বা স্বাধীন সাক্ষী ছিল না।
উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ
অতিরিক্ত সেশনস জজ হারগুরভারিন্দর সিং জাগ্গি অভিযুক্তের আপিল খারিজ করে দিয়ে নিম্ন আদালতের রায়কেই বহাল রাখেন। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়:
-
সাক্ষ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা: কোনও স্বাধীন সাক্ষী না থাকলেও অভিযোগকারী নারীর বয়ান সম্পূর্ণ বিশ্বাসযোগ্য এবং প্রমাণের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়েছে।
-
সামাজিক নিরাপত্তা: গণপরিবহনে নারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের আচরণ কোনওভাবেই হালকাভাবে নেওয়া যায় না। এটি একজন নারীর মানসিক নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত মর্যাদাকে গভীরভাবে আঘাত করে।
-
কঠোর বার্তা: সমাজে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি অবস্থান নেওয়া জরুরি।
আদালতের এই রায়ে স্পষ্ট হয়েছে যে, তথ্যপ্রমাণের দোহাই দিয়ে বা ভিড়ের সুযোগ নিয়ে নারীদের হেনস্থা করে পার পাওয়া সম্ভব নয়। গণপরিবহনকে নারীদের জন্য নিরাপদ করে তুলতে এই রায় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।



