ইউনিফর্ম ডিভোর্স (একক বিবাহবিচ্ছেদ) বিধির বিরোধিতা: মুসলিম মহিলাদের সংস্থা সুপ্রিম কোর্টে বলল, পিআইএল খারিজ হোক

তালাক-এ-হাসান সহ অন্যান্য একক বিবাহবিচ্ছেদ পদ্ধতি এবং মুসলিম ব্যক্তিগত আইনের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলার (পিআইএল) বিরোধিতা করল একটি মুসলিম মহিলা সংস্থা। এই মামলায় নিজেদের পক্ষভুক্ত করার আবেদন (Intervention Application) জানিয়েছে তারা।
ওই মহিলা সংস্থাটি সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে যে, অভিন্ন বিবাহবিচ্ছেদ বিধির জন্য দায়ের হওয়া এই পিআইএল-টি মুসলিম মহিলাদের ধর্মীয়ভাবে স্বীকৃত ‘খোলা’ (Khula), ‘মোবারাত’ (Mubaraat) এবং ‘তালাক-এ-হাসান’-এর মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদ চাওয়ার অধিকারের প্রতি হুমকি স্বরূপ। এই পিআইএল অনুমোদিত হলে, মুসলিম মহিলারা ১৯৩৯ সালের আইনের ধারা ২ অনুযায়ী সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত বিবাহবিচ্ছেদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন।
সংস্থাটি যুক্তি দেখিয়েছে যে, ইসলামে বিবাহবিচ্ছেদ একটি ‘বিবেকের বিষয়’ এবং এটি একটি অবিচ্ছেদ্য ধর্মীয় প্রথা। এতে কোনো হস্তক্ষেপ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪, ১৯(১), ২৫, ২৬ এবং ২৯ অনুযায়ী ধর্ম ও বিবেকের স্বাধীনতার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করবে। তারা আরও দাবি করেছে, তালাক-এ-হাসান-এ ইদ্দত (iddat) চলাকালীন পুনর্মিলনের সময় থাকে, এবং খোলা ও মোবারাত-এর মতো পদ্ধতিগুলো মহিলাদের দীর্ঘ মামলা-মোকদ্দমা ছাড়াই দ্রুত সম্পর্ক ছিন্ন করার ক্ষমতা দেয়। এই প্রক্রিয়াগুলো এমন ‘খোঁড়া বিবাহ’ (limping marriages) রোধ করে, যেখানে দেওয়ানি বিবাহবিচ্ছেদ থাকলেও ধর্মীয় বিবাহবিচ্ছেদ হয় না, যার ফলে মহিলারা তাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে পুনরায় বিবাহ করতে পারেন না।
সংস্থাটি আরও বলেছে যে পিআইএল-এর মাধ্যমে অভিন্নতার অজুহাতে মুসলিম মহিলাদের ধর্মীয়ভাবে স্বীকৃত বিবাহবিচ্ছেদের অধিকারকে অস্বীকার করা যায় না। তাদের মতে, আবেদনকারীর ব্যক্তিগত অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো ইসলামিক বিবাহ আইন কাঠামোর ওপর আক্রমণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাই তারা সুপ্রিম কোর্টের কাছে এই পিআইএল খারিজ করার আর্জি জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট মন্তব্য করেছিল যে, মুসলিমদের মধ্যে প্রচলিত তালাক-এ-হাসান (যেখানে তিন মাস ধরে প্রতি মাসে একবার ‘তালাক’ বলা হয়) পদ্ধতিটি প্রথম দৃষ্টিতে ‘অনুপযুক্ত’ নয়। তবে বিচারপতি কান্ত সাম্প্রতিক সময়ে একটি মামলা প্রসঙ্গে স্বামীর অ্যাডভোকেট দ্বারা স্বাক্ষরিত তালাকের নোটিশ পাঠানোর পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন এবং বলেছিলেন যে একটি সভ্য সমাজে এই ধরনের আচরণ অনুমোদন করা উচিত নয়।



