
জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA) জম্মু ও কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্ট (JKLF)-এর সন্ত্রাসী ইয়াসিন মালিকের মৃত্যুদণ্ডের আবেদনের শুনানির জন্য দিল্লি হাইকোর্টকে রুদ্ধদ্বার প্রক্রিয়া (ইন-ক্যামেরা প্রোসিডিংস) অনুসরণের অনুরোধ জানিয়েছে। একটি সন্ত্রাসবাদে অর্থ জোগানের মামলায় নিম্ন আদালত মালিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলেও, NIA তার জন্য মৃত্যুদণ্ড চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করেছে।
বিচারপতি বিবেক চৌধুরী এবং বিচারপতি মনোজ জৈনের ডিভিশন বেঞ্চের সামনে এই আবেদনটি পেশ করা হয়। NIA-এর পক্ষে বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (SPP) অক্ষয় মালিক অনুরোধ করেন, “এটা যেন খোলা আদালতে না হয়; ইয়াসিন মালিকের উপস্থিতির জন্য দয়া করে একটি পৃথক লিঙ্ক সরবরাহ করুন।” আদালত এই অনুরোধটি বিবেচনা করার কথা জানিয়েছে এবং মামলার পরবর্তী শুনানি ২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি ধার্য করা হয়েছে।
NIA একই সঙ্গে শুনানির মুলতুবি চেয়েছে, কারণ গত আগস্ট মাসে ইয়াসিন মালিক একটি হলফনামা সিল করা খামে আদালতে জমা দেন এবং NIA সেই হলফনামার জবাবে তাদের বক্তব্য দাখিল করার জন্য সময় চেয়েছে। ওই হলফনামায় মালিক দাবি করেন যে, ১৯৯০ সাল থেকে তিনি পরপর ছয়টি সরকারের সঙ্গে কার্যনির্বাহী সম্পর্ক বজায় রেখেছেন এবং জম্মু ও কাশ্মীরে শান্তি প্রক্রিয়াকে বাঁচিয়ে রাখতে রাষ্ট্র তাকে উৎসাহিত করেছিল।
২০২২ সালের ১৯ মে সন্ত্রাসবাদে অর্থ জোগানো ও বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ইয়াসিন মালিক দোষী সাব্যস্ত হন। ওই বছরের ২৫ মে NIA বিচারক প্রবীণ সিং মালিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা করেন।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার সময় বিচারক পর্যবেক্ষণ করেছিলেন যে, মালিকের মধ্যে কোনো অনুশোচনা বা সংস্কার দেখা যায়নি। আদালত আরও জানায়, “তিনি ১৯৯৪ সালের আগে যে সহিংসতা করেছেন, তার জন্য তিনি কখনই অনুতাপ প্রকাশ করেননি।” বিচারকের মতে, মালিকের এই অপরাধগুলি “ভারতের ধারণার মূলে আঘাত হানার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল” এবং “জোর করে জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করার” লক্ষ্য ছিল। এই অপরাধগুলি বিদেশী শক্তি এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের সহায়তায় করা হয়েছে, যা অপরাধের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
মামলার পটভূমি অনুযায়ী, হাওয়ালা সহ বিভিন্ন অবৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ এবং জম্মু ও কাশ্মীরে পাথর ছোঁড়া, স্কুল ও ভবন পোড়ানোর মতো বিশৃঙ্খল ও বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপে মালিক জড়িত ছিলেন। ২০১৬ সালে মালিক অন্যান্য হুরিয়ত নেতাদের সঙ্গে মিলে ‘জয়েন্ট রেজিস্ট্যান্স লিডারশিপ’ নামে একটি গোষ্ঠী তৈরি করেন, যার মাধ্যমে তারা হরতাল ও বিক্ষোভের নির্দেশ দিত।



