খবরাখবর

“বাক স্বাধীনতা গণতন্ত্রের জীবনীশক্তি, এটিকে অবশ্যই রক্ষা করতে হবে”: প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বি. আর. গাভাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের সদ্য প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ভূষণ রামকৃষ্ণ গাভাই (বি. আর. গাভাই) মুম্বাইয়ে বোম্বে হাইকোর্ট আয়োজিত ‘জাস্টিস কে. টি. দেশাই মেমোরিয়াল লেকচার, ২০২৫’ অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে বাক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার (Freedom of Speech and Expression) গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, ভারতের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৯(১)(ক) দ্বারা সুরক্ষিত এই মৌলিক অধিকারটি হলো গণতন্ত্রের সজীবতা বা জীবনীশক্তি (Lifeline of Democracy)। তাঁর মতে, গণতন্ত্র তখনই সঠিকভাবে কাজ করে যখন নাগরিকরা স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে পারে, কথা বলতে পারে এবং সরকারের নীতিমালার গঠনমূলক সমালোচনা করতে পারে। তিনি জোর দেন যে, বিচার বিভাগের কাজ হলো রাষ্ট্রের ক্ষমতা যেন নাগরিকের মত প্রকাশের অধিকারকে দমন না করে, তা নিশ্চিত করা।

প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি গাভাই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সতর্ক করে দেন। তিনি বলেন, বাকস্বাধীনতার সঙ্গে সম্পর্কিত মামলাগুলি যদি বছরের পর বছর ধরে বিচারাধীন থাকে, তবে প্রক্রিয়াটি নিজেই এক ধরনের শাস্তিতে পরিণত হয় (Process itself becomes a punishment)। তাঁর মন্তব্য, “মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি শেষ পর্যন্ত নির্দোষ প্রমাণিত হলেও, এই দীর্ঘসূত্রিতা তার স্বাধীনতা, সম্মান এবং স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের ক্ষমতায় অপূরণীয় ক্ষতি করে দিতে পারে।”

তিনি সুপ্রিম কোর্টের ৭৫ বছরের যাত্রাপথে বাকস্বাধীনতার বিবর্তন ব্যাখ্যা করে বলেন যে, আদালত ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার, প্রেসের স্বাধীনতা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের চ্যালেঞ্জগুলির সঙ্গে মানিয়ে নিতে এই অধিকারের ব্যাপ্তি বাড়িয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আদালতের রায়গুলি এটাই প্রমাণ করে যে, সংবিধানের প্রতি বিচার বিভাগের প্রতিশ্রুতি হলো—ব্যক্তি ও সমাজের গণতন্ত্রে অবাধ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button