
জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ হাইকোর্ট সম্প্রতি এক মহিলার প্রতিরোধমূলক আটকাদেশ (preventive detention) বহাল রেখেছে, যিনি নিহত লস্কর-ই-তৈবা (LeT) জঙ্গি মুসাইব লাখভির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ।
প্রধান বিচারপতি অরুণ পল্লি এবং বিচারপতি রজনীশ ওসওয়ালের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, আটকাদেশের আদেশে তারা কোনো পদ্ধতিগত ত্রুটি খুঁজে পায়নি। আদালতের কাছে আটকাদেশের কারণগুলি অস্পষ্ট বলে যে দাবি করা হয়েছিল, বেঞ্চ তাতে কোনো সারবত্তা দেখেনি।
জম্মু ও কাশ্মীর পাবলিক সেফটি অ্যাক্ট, ১৯৭৮ (PSA)-এর অধীনে বন্দিপোরার বাসিন্দা শায়েস্তা মকবুলের আটকাদেশের নির্দেশ জারি করেছিলেন ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট। অভিযোগ ছিল, শায়েস্তা মকবুল লস্কর-ই-তৈবার ‘ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কার’ হিসেবে কাজ করছিলেন। কর্তৃপক্ষ আরও দাবি করেছিল যে, মকবুল স্থানীয় ও বিদেশি জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং তাঁর কার্যকলাপ জম্মু ও কাশ্মীরের নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকারক। নিহত লস্কর জঙ্গি মুসাইব লাখভির সঙ্গেও তাঁর রোমান্টিক সম্পর্ক ছিল।
মকবুল অবশ্য তাঁর আটকাদেশকে বেআইনি দাবি করে যুক্তি দেন যে, আটকাদেশের কারণগুলি অস্পষ্ট এবং তাঁর প্রতিনিধিত্ব (representation) সঠিকভাবে বিবেচনা করা হয়নি। এর আগে হাইকোর্টের একক বেঞ্চ তাঁর আবেদন খারিজ করে দিলে তিনি ডিভিশন বেঞ্চে আপিল করেন।
হাইকোর্ট তাঁর আপিল খারিজ করে দিয়ে জানায় যে, যেহেতু মহিলাটি গোপনে অপরাধমূলক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত, তাই এসব ক্ষেত্রে সবসময় কংক্রিট প্রমাণ পাওয়া সম্ভব নয়। তাই, সাধারণ ফৌজদারি আইন এই ধরনের দেশবিরোধী কার্যকলাপ মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট নয়—আটককারী কর্তৃপক্ষের এই অবস্থানে আদালত সমর্থন খুঁজে পেয়েছে।
আদালত আরও স্পষ্ট করে বলেছে, বিচারিক পর্যালোচনার (judicial review) ক্ষমতা প্রয়োগ করার সময়, আদালত আটককারী কর্তৃপক্ষের ব্যক্তিগত সন্তুষ্টির উপর আপিল আদালতের মতো করে বসতে পারে না।
অর্থাৎ, প্রেমের সম্পর্কের অভিযোগই নয়, বরং জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকার সন্দেহেই আদালত এই আটকাদেশ বহাল রেখেছে।



