
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি ভূমি অধিগ্রহণ আইন (Land Acquisition Act)-এর একটি মৌলিক নীতিকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে জানিয়েছে যে, সরকার আইন মেনে জমির মালিককে ক্ষতিপূরণ দিলে, তার আর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা থাকে না। অর্থাৎ, জমি অধিগ্রহণের বিনিময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের চাকরি পাওয়ার কোনো সহজাত অধিকার নেই।
এই বিষয়ে বিচারপতি পঙ্কজ মিথাল এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি. ভারালের একটি বেঞ্চ হরিয়ানার এক ব্যক্তির দায়ের করা আবেদন খারিজ করে দেয়। আবেদনকারী সঞ্জীব কুমার প্রায় ৩০ বছর আগে তার পরিবারের অধিগ্রহণ করা জমির বিনিময়ে সরকারি চাকরি চেয়েছিলেন— মজার বিষয় হলো, জমি যখন অধিগ্রহণ করা হয়, তখন তার জন্মই হয়নি!
আদালতের মূল পর্যবেক্ষণ:
- আইনের বিধান: আদালত স্পষ্টভাবে বলেছে যে, ১৮৯৪ সালের ভূমি অধিগ্রহণ আইনের (Land Acquisition Act, 1894) বিধান অনুযায়ী, জমি অধিগ্রহণের পর, জমির মালিক বা তার পরিবার কেবল ক্ষতিপূরণ (Compensation) পাওয়ার অধিকারী। এই আইনে ক্ষতিপূরণের বদলে চাকরি দেওয়ার কোনো সংস্থান নেই।
- রাজ্যের দায়িত্ব: একবার রাজ্য আইনগত প্রক্রিয়া মেনে জমি অধিগ্রহণ করে এবং বাধ্যতামূলক ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করে দিলে, তার আইনি দায়িত্ব সম্পূর্ণ হয়। এর বাইরে আর কোনো সুবিধা, যেমন চাকরি দেওয়ার, বাধ্যবাধকতা থাকে না।
- নীতি আইনের ঊর্ধ্বে নয়: আদালত আরও বলেছে যে, জমি অধিগ্রহণের বদলে চাকরি দেওয়ার কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত যদি থাকেও, তবে তা আইনের বিধানকে ছাপিয়ে যেতে পারে না।
- বিলম্ব ও অযোগ্যতা: এই নির্দিষ্ট মামলায়, আবেদনকারীর পরিবারের জমি অধিগ্রহণ হয়েছিল ১৯৯৮ সালে এবং ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়েছিল। আবেদনকারী চাকরি চেয়ে আবেদন করেন ২০২৫ সালে, যা নীতি প্রণয়নের ১৮ বছর পরে। এতো দেরিতে করা এই আবেদনটি আদালত গ্রহণযোগ্য মনে করেনি।
এই রায়টি সেই সমস্ত মামলাগুলির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করলো, যেখানে পরিবারগুলি আইনগতভাবে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পরেও শুধুমাত্র জমির বিনিময়ে সরকারি চাকরি দাবি করে। সহজ কথায়, সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল: আইন বলে টাকা নাও, চাকরি নয়।
আপনার যদি এই রায়ের আইনি দিক, বা ২০১৩ সালের নতুন জমি অধিগ্রহণ আইন (The Right to Fair Compensation and Transparency in Land Acquisition, Rehabilitation and Resettlement Act, 2013) নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকে, তাহলে আমি সেই বিষয়ে সাহায্য করতে পারি।



