
বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-ভিত্তিক ‘ডিপফেক’ (Deepfake) প্রযুক্তি সাধারণ মানুষের গোপনীয়তা ও দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত অপব্যবহার রুখতে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ একটি জনস্বার্থ মামলা (PIL) গ্রহণ করেছে গুজরাট হাইকোর্ট। আদালত এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের পাশাপাশি পুলিশের মহানির্দেশকের (DGP) কাছেও হলফনামা তলব করেছে।
সংকট ও উদ্বেগের কারণ: মামলাকারী আইনজীবী ভিকাশ বিজয় নায়ার আদালতে জানান যে, ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে এখন কোনো মানুষের কণ্ঠস্বর, চেহারা ও অঙ্গভঙ্গি হুবহু নকল করা সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে কোনটি আসল আর কোনটি কৃত্রিমভাবে তৈরি, তা সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। পিটিশনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, রাজনৈতিক নেতা বা সাংবিধানিক পদে আসীন ব্যক্তিদের ছবি ও ভিডিও নকল করে ভুল তথ্য ছড়ানো হতে পারে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং জননিরাপত্তার জন্য চরম বিপজ্জনক।
আদালতের পদক্ষেপ: গুজরাট হাইকোর্টের বিচারপতিরা বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত জানিয়েছে, সরকারি জবাব পাওয়ার পর গুগল (Google), মেটা (Meta), এক্স (X)-এর মতো বৃহৎ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকেও এই মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।
আবেদনকারীর মূল দাবি: জনস্বার্থ মামলায় বেশ কিছু কার্যকর ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়েছে:
-
নিয়ন্ত্রণ বিধি: ডিপফেক ও কৃত্রিম কন্টেন্ট দমন করার জন্য দ্রুত কঠোর আইনি নির্দেশিকা বা ‘গাইডলাইন’ তৈরি করতে হবে।
-
চিহ্নিতকরণ: AI দ্বারা তৈরি প্রতিটি ছবি বা ভিডিওতে বাধ্যতামূলকভাবে ‘ওয়াটারমার্ক’ বা বিশেষ সংকেত (Flagging) থাকতে হবে, যাতে গ্রাহকরা সেটি নকল বলে বুঝতে পারেন।
-
প্ল্যাটফর্মের দায়বদ্ধতা: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে সন্দেহভাজন কৃত্রিম কন্টেন্ট দ্রুত শনাক্ত করে তা মুছে ফেলার জন্য দায়বদ্ধ করতে হবে।
-
তদন্ত পদ্ধতি: সাইবার ক্রাইম ইউনিট ও থানাগুলোর জন্য ডিপফেক সংক্রান্ত অপরাধের তদন্তে একটি নির্দিষ্ট ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর’ (SOP) তৈরি করতে হবে।
পরবর্তী পদক্ষেপ: আদালত উল্লেখ করেছে যে, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল আইন সংশোধন করা এখন সময়ের দাবি। মামলাটির পরবর্তী শুনানি আগামী ২০ মার্চ ২০২৬-এ নির্ধারিত হয়েছে।



