সোশ্যাল মিডিয়ায় বিচারব্যবস্থাকে গালিগালাজ ‘বাক-স্বাধীনতা’ নয়: কড়া হুঁশিয়ারি এলাহাবাদ হাইকোর্টের

প্রয়াগরাজ: বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আদালত বা বিচারকদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার প্রবণতা বাড়ছে। এই বিষয়ে কড়া মনোভাব প্রকাশ করল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, বিচারব্যবস্থার বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিকর বা গালিগালাজপূর্ণ পোস্ট করা কোনোভাবেই ‘সুস্থ সমালোচনা’ নয় এবং এটি আদালত অবমাননা বা ‘কনটেম্পট অব কোর্ট’ হিসেবে গণ্য হবে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও রায়
বিচারপতি জেজে মুনিজ এবং বিচারপতি প্রমোদ কুমার শ্রীবাস্তবের ডিভিশন বেঞ্চ একটি মামলার শুনানিতে এই পর্যবেক্ষণ দেন। জনৈক এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে এই মামলাটি উঠেছিল। অভিযোগ ছিল, তিনি বস্তি (Basti) জেলার একটি দেওয়ানি আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন এবং পরে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়েছিলেন।
বেঞ্চের মতে, ১৯৭১ সালের আদালত অবমাননা আইনের অধীনে এ ধরনের আচরণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিচারপতিরা বলেন, “রায়ের সমালোচনা করা বা আইনগত ভুল ধরিয়ে দেওয়া যে কোনো নাগরিকের মৌলিক অধিকার। কিন্তু যখন সেই সমালোচনা ব্যক্তিগত আক্রমণ, গালিগালাজ বা অপপ্রচারে রূপ নেয়, তখন তা আইনি সীমা লঙ্ঘন করে।”
জেমস বন্ড নয়, দায়িত্বশীল নাগরিক হোন
আদালত সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে জানিয়েছে যে, সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো মন্তব্য করার আগে তার পরিণতি সম্পর্কে ভাবা উচিত। আদালতের ভাষায়, “আমরা জনগণকে ভবিষ্যতে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছি। কারণ, অবমাননাকর মন্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং যদি তা আদালতের নজরে আসে, তবে আইন অনুযায়ী দোষীকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।”
ক্ষমা প্রার্থনা ও সতর্কবার্তা
সংশ্লিষ্ট মামলার অভিযুক্ত আইনজীবী শেষ পর্যন্ত আদালতে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং নিজের ভুল স্বীকার করেন। তাঁর অনুশোচনা দেখে আদালত কৌশলগতভাবে অবমাননার কার্যক্রম বন্ধ করলেও, সাধারণ মানুষের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী বার্তা দিয়ে রেখেছে। আদালত পুনরায় জোর দিয়ে বলেছে যে, সোশ্যাল মিডিয়ায় মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে সবাইকে তথ্যভিত্তিক এবং আইনি সীমার মধ্যে থাকতে হবে। বিচারব্যবস্থার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করলে আইন তার নিজস্ব পথেই চলবে।



